• ইনিউমারেশন ফর্ম আপলোড করছেন তৃণমূল কর্মীরা, অভিযোগ বিজেপির
    বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: তৃণমূল কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছেন সব ইনিউমারেশন ফর্ম। তাঁরাই তা অনলাইন সাবমিশনের কাজ করছেন। সিউড়ির তিলপাড়া পঞ্চায়েতের জোকা-চণ্ডীপুর বুথে ১০২ নম্বর অংশের বিএলওর বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। যা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বেনিয়ম করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন বিএলও। কেউ কেউ সেই কাণ্ড মোবাইল বন্দিও করেছেন। সেই ভিডিও সমেত নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিডিওর কাছে বিষয়টি দেখার নির্দেশ এসেছে উপর মহল থেকে। তার জেরে শোকজ করা হয়েছে অভিযুক্ত বিএলওকে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে বিএলও হিসেবে নিযুক্ত আছেন অঙ্গনওয়ারি কর্মী গৌরী মাল। তাঁর বিরুদ্ধেই সংগৃহীত ইনিউমারেশন ফর্ম তৃণমূলের কর্মীদের দিয়ে আপলোড করানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে এসআইআর কতটা পরিচ্ছন্ন হবে, তা নিয়ে ওই বুথে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, বিএলও ইনিউমারেশন ফর্ম তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের দিয়ে পূরণ করাচ্ছে। অনলাইনে আপলোডও করছেন তাঁরা। এ নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। বিজেপির আরও অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীদের অনলাইনে সাবমিশনের কাজে নিযুক্ত করার জন্য সুপারভাইজার বিষ্ণুচরণ পালকে জোর করেছেন সিউড়ি-১ ব্লকের বিডিও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

    বিজেপি সূত্রের দাবি, ওই বিএলওর এমন অনৈতিক কাজ কারবার ভিডিও সহ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। তারই ভিত্তিতে শোকজ করা হয়েছে ওই বিএলওকে। যদিও অভিযুক্ত বিএলও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ফর্মগুলি সংগ্রহ করে নিয়ে পঞ্চায়েতে গিয়েছিলাম। কিছু কিছু জিনিস বুঝতে পারছিলাম না। তাই পঞ্চায়েতের সুপারভাইজারের কাছে বুঝতে গিয়েছিলাম। ফর্ম কাউকেই দিইনি। আমার কাছেই আছে। কিন্তু, কে পিছন থেকে কী ভিডিও করেছে, জানি না। শোকজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে বিএলও বলেন, আমাকে বিডিও ডেকেছিলেন। কী হয়েছে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমাকে কয়েকদিন কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন। শনিবার থেকে আমি আর ফর্ম সংগ্রহ করতে বের হইনি। সিরিয়াল নম্বর ধরে ফর্ম মেলাচ্ছিলাম।

    সিউড়ি-১ ব্লকের বিডিও হাসনাত আলি বলেন, ওই বিএলওর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল। আমাদের কাছে একটি ভিডিও এসে পৌঁছেছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। 

    বাকিটা আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। তৃণমূলের ওই অঞ্চলের সভাপতি মসলিম আলি খান বলেন, এটা বিজেপির চক্রান্ত। ওই বিএলও গৌরি মাল সুপার ভাইজারের কাছে এন্ট্রির সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে গিয়েছিল। সেই সময় কেউ ছবি তুলে ভাইরাল করেছে। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, শুধু তিলপাড়া হয়, এরকম একাধিক ঘটনা ঘটছে আমরা লক্ষ্য করেছি। তৃণমূল বিএলওকে হাত করে এভাবেই ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটারের নাম তুলতে চাইছে। তবে, কমিশনের উপর আমাদের ভরসা আছে। এভাবে তৃণমূল ভোটে জিততে পারবে না।
  • Link to this news (বর্তমান)