ট্রাফিক জরিমানার ২০ শতাংশ দিলেই এবার কেস থেকে রেহাই
বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গত চার বছরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী এক লক্ষ ৩৫ হাজার গাড়ির মালিক জরিমানার টাকা জমা দেননি। জরিমানা না দিয়েই অনেকে গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন, আবার কেউ ভিনরাজ্যে বিকল্প কাজে পাড়ি দিয়েছেন। অনেকে ফাইনের বোঝা মাথায় নিয়েই দিব্যি গাড়িতে চড়ছেন। আবার, কেউ কেউ ফাইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। কিন্তু, গাড়ির রিনিউয়াল, ফিটনেস টেস্ট কিংবা যেকোনও কাজ করাতে গিয়ে তাঁদের বিপত্তির মুখে পড়ছেন। ফাইনের টাকা না মেটালে সরকারি অফিস থেকে গাড়ির কোনও কাজ করা যাচ্ছে না। নিয়মের গেরোয় সব আটকে যাচ্ছে। ২০২২-’২৩ সাল থেকে ট্রাফিক ই-চালান কাটা এক লক্ষ ২৩ হাজার গাড়ির মালিক জরিমানার টাকা জমা দেননি। তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ফাইনের মাত্র ২০ শতাংশ টাকা দিয়ে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ এনে দিচ্ছে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৩ ডিসেম্বর তমলুক, হলদিয়া এবং কাঁথি আদালতে মোট ২৫টি লোক আদালতের বেঞ্চ বসছে। ওইসব বেঞ্চে শুধুমাত্র ট্রাফিক ফাইন নিয়ে কাজ হবে। এজন্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ডিএলএসএ-র পক্ষ থেকে মাইকিং শুরু হয়েছে।
ট্রাফিক আইনে ন্যূনতম ৫০০ টাকা থেকে সর্বাধিক ১০ হাজার টাকা ফাইন রয়েছে। যাঁদের ৫০০ টাকা ফাইন কাটা আছে তাঁরা লোক আদালতে একশো টাকা দিলেই কেস থেকে রেহাই পাবেন। ফাইনের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা হলে মাত্র দু’হাজার টাকাতেই কেসের রফা হয়ে যাবে। এছাড়াও অনেকের এক হাজার এবং পাঁচ হাজার টাকার ফাইন রয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকে পাঁচ ভাগের একভাগ টাকা দিলেই ট্রাফিক জরিমানা থেকে মুক্ত হবেন। ওভারলোডিং, ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙা, হেলমেট ব্যবহার না করা, সিটবেল্ট ব্যবহারে অনীহা, পণ্যবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহণ সহ নানা অভিযোগে ফাইন করা হয়েছে। অনেক সময় সিসি টিভির ফুটেজ দেখেই জরিমানার নোটিশ বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে। সময়মতো জরিমানার টাকা না দেওয়ায় প্রতিবছর বকেয়া কেসের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে তমলুক, কাঁথি এবং হলদিয়া কোর্টে হেল্প ডেস্ক চালু হচ্ছে। সেখানে পুলিশ কর্মী, প্যারা লিগ্যা ভলান্টিয়ার এবং আদালতের কর্মীরা থাকবেন। গাড়ি মালিকরা কত টাকা ফাইন হয়েছে এবং কত টাকা দিতে হবে এ সংক্রান্ত তথ্য হেল্প ডেস্ক থেকে জানতে পারবেন। তারপর আগামী ১৩ ডিসেম্বর জাতীয় লোক আদালতে মোট ২৫টি বেঞ্চে ট্রাফিক জরিমানার পাঁচ ভাগের একভাগ আদায় করে মামলা থেকে রেহাইয়ের সুযোগ মিলবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সেক্রেটারি সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জরিমানার অঙ্কের পাঁচ ভাগের এক ভাগ টাকা দিলেই কেস থেকে রেহাইয়ের সুযোগ থাকবে। আমরা বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য মাইকিং করছি। ২০২২-’২৩ সাল থেকে প্রায় এক লক্ষ ৩৫হাজার কেস বকেয়া আছে। এরমধ্যে শেষ লোক আদালতে আমরা ১০ হাজার কেস নিষ্পত্তি করেছি।