বাংলাদেশের মাটি থেকে পাকিস্তানের উসকানি! নদীয়া সীমান্তে সেনাঘাঁটি ভারতের
বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও কৃষ্ণনগর: ৫৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্তে ভারতীয় সেনার তৎপরতা তুঙ্গে। শুধু তৎপরতা বৃদ্ধি নয়, নদীয়ার চাপড়ায় ‘পাকাপোক্ত’ সেনাঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তান সেনার ক্রমবর্ধমান গতিবিধি এবং ভারত বিরোধী চক্রান্ত রূপায়িত করার মরিয়া চেষ্টা ঠেকাতেই পালটা আসরে ভারতীয় সেনা। বৃহস্পতিবার সেনার শিখ লাইট ইনফ্যান্ট্রির আধিকারিক ও জওয়ানদের একটি দল চাপড়ার সীমান্ত গ্রাম পঞ্চায়েত হাটখোলার বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করে ছবি তুলে গিয়েছে। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেছে সেনা। খুব শীঘ্র যে সীমান্তের এই অংশে সেনাঘাঁটি তৈরি হতে চলেছে, সে ইঙ্গিত দিয়ে এসেছেন সেনা আধিকারিকরা।
শেখ হাসিনা উৎখাত পর্বে যেভাবে ‘একদা শত্রু’ পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে ভারত বিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার, তাতে চিন্তা বেড়েছে দিল্লির। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের ‘চিকেন নেক’ বলে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরকে ‘ডিস্টার্ব’ করার জন্য চীনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ঢাকা। সেই সুবাদে চিকেন নেক সংলগ্ন বাংলাদেশের লালমনিরহাটে চীনের মদতে বায়ুসেনার আধুনিক ঘাঁটি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সঙ্গে সেনা মহড়াও। এ রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে গতিবিধি বেড়েছে পাকিস্তানের স্থল, বায়ু ও নৌসেনা আধিকারিকদের। বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে ‘ভিত্তি’ বানিয়ে তৎপরতা বেড়েছে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়েরও। তাই সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অপারেশন সিন্দুরে ব্যাপক মার খাওয়ার পর এখন বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করে ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে ইসলামাবাদ। পূর্ব ভারত সীমান্তের এই ‘নয়া উৎপাত’ সামলাতেই নতুন সেনাঘাঁটি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সেই সূত্রে ইতিমধ্যে অসমের ধুবড়ির বামুনিগাঁওতে নতুন সেনাঘাঁটি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, এই পর্বেই কিষানগঞ্জ এবং দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্ট চাপড়ায় ঘাঁটি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেনা। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্যই শিখ লাইট ইনফ্যান্ট্রির আধিকারিক-জওয়ানরা চাপড়া সীমান্ত পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বাংলাদেশে ঘনঘন যাতায়াত শুরু করেছেন পাকিস্তান সেনা কর্তারা। পাক সেনার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড শামসাদ মির্জা, আইএসআই প্রধান আসিম মালিক থেকে শুরু করে পাকিস্তানের তাবড় মিলিটারি অফিসাররা এখন ঢাকার ডেইলি প্যাসেঞ্জার। করাচি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে ভিড়েছে পাক নৌ সেনার বহর। এমনকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ টাক্সিলার কর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল শাকিরুল্লা খটক এই মুহূর্তে বাংলাদেশে। সূত্রের খবর, নয়া বন্ধু পাকিস্তানের থেকে সামরিক সাহায্য নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা গড়তে দিতেও রাজি হয়েছে ঢাকা। ঢাকা-ইসলামাবাদের এহেন তৎপরতার ভরকেন্দ্র এখন কুষ্ঠিয়ার নওদার সেনাঘাঁটি। নদীয়া সীমান্ত থেকে যা খুবই কাছে। গোয়েন্দারা বলছেন, ৭১’এর বদলা নিতে নতুন ষড়যন্ত্র করেছে ইসলামাবাদ। আর তাতে মাথা বিকিয়েছে ইউনুসের বাংলাদেশ। যে পাক বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের সঙ্গেই স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার যৌথ মহড়া করবে ইউনুসের দেশ! পোশাকি নাম ‘আমন-২৬’।