দিল্লি বিস্ফোরণের জের, সন্ত্রাস দমনের পাঠ চালু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের
বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: দিল্লি বিস্ফোরণের জের! নতুন জঙ্গি সংগঠন ও তাদের কার্যকলাপ, সাইবার দুনিয়ায় গুপ্তচর বৃত্তিসহ বিশ্বজুড়ে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির নেটওয়ার্ক কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়ে কাউন্টার টেরোরিজমের পাঠ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিস্ফোরণকাণ্ডের পর এই পাঠ ফের শুরু করল দিল্লি। সূত্রের খবর, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ কর্তাদের নিয়ে এই পাঠ দেওয়ার কাজ শেষ করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আধিকারিকরা জঙ্গি দমনে থাকা স্পেশাল ফোর্সের জওয়ানদের এবার ‘ক্লাস’ করাবেন।
দিল্লি বিস্ফোরণের পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তথ্য এসেছে, কীভাবে দেশজুড়ে মেডিকেল মডিউল কাজ করেছে। জয়েশের মতো জঙ্গি সংগঠন মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীদের জেহাদি ভাবধারায় উদ্বুব্ধ করেছে। গড়পড়তা লোকজন নয়, সমাজের এমন শ্রেণীতে তারা ঢুকে গিয়েছে, যাঁদের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহের কোনও জায়গা নেই। তদন্তকারীরা বুঝতে পারছেন, জয়েশ, লস্কর তাদের স্ট্র্যাটেজি পাল্টে ফেলেছে। পাশাপাশি রাসায়নিক ব্যবহারের কৌশলেও বদল এনেছে। গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে প্রতিনিয়ত। নিত্যনতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তারা। গোয়েন্দা কর্তাদের বক্তব্য, একসময়ে গুপ্তচর বৃত্তি বলতে বোঝাত, নির্দিষ্ট টার্গেটের অন্দরের খবর জেনে নিয়ে তা পাচার করা। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি। যা যথেষ্ট উদ্বেগের। জঙ্গি সংগঠনের বদলে যাওয়া কাজকর্ম নিয়ে এর আগে নিয়ম করে বিভিন্ন সেমিনারে অফিসারদের পাঠ দিত দিল্লি। দেশে জঙ্গি গোষ্ঠীর কার্যকলাপ ও গতিবিধি কমে আসায় এই ধরনের বিষয়ে আলোচনাও কমতে থাকে। বেশ কিছুদিন বন্ধও হয়েছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। দিল্লি বিস্ফোরণের পরই আবার পুরনো পন্থাতেই ফিরেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকরা। সেই অনুযায়ী চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে হায়দরাবাদ পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ওই সংক্রান্ত একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের পদস্থ কর্তারা হাজির ছিলেন।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সেই কর্মশালায় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন কীভাবে এক ছাতার তলায় এসে কাজ করছে, সেই প্রসঙ্গ উঠে আসে। এই প্রসঙ্গে সারা বিশ্বে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে দেশে সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর মতাদর্শ যে এক, তা তুলে ধরেন আধিকারিকরা। তাদের কাজের পদ্ধতি কীভাবে পাল্টে গিয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তুলে ধরেন তাঁরা। এই আলোচনায় জঙ্গি সংগঠনগুলি তাদের কাজের পদ্ধতিতে কী কী পরিবর্তন এনেছে, নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কীভাবে হচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্য নিয়ে কাটাছেঁড়া চলে। পুলিশের শীর্ষ কর্তারা গোয়েন্দা তথ্য বেশি করে সংগ্রহের উপর জোর দিয়েছেন। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, শুধু ফিজিক্যাল নজরদারি নয়, সাইবার দুনিয়ায় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির উপর ক্রমাগত নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য বেশি করে নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যাতে জঙ্গি নেটওয়ার্ককে গোড়াতেই ভেঙে দেওয়া যায়।