• নভেম্বরে রাজ্যে ধানক্রয় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল, ডিসেম্বরে গতিবৃদ্ধির আশা
    বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নভেম্বর মাস শেষ হওয়ার আগে লক্ষ্যমাত্রার থেকে অনেক বেশি পরিমাণ ধান চাষিদের কাছে কিনল রাজ্য সরকার। নভেম্বরে মোট ৬ লক্ষ টন ধান কেনা হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। সেখানে শুক্রবার ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৭ লক্ষ ৭৬ হাজার ৬৯৬ টন ধান কেনা হয়েছে বলে খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত ধান কেনার গতি অনেকটাই মন্থর ছিল। গত ১৮ নভেম্বর খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে ধান কেনার কাজে গতি আনার জন্য সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন। ওইদিন পর্যন্ত ধান কেনার মোট পরিমাণ আড়াই লক্ষ টন ছাড়ায়নি। এরপর ধান কেনার পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যায়। 

    খাদ্যদপ্তর সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেছেন ৪ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮৮০ জন চাষি। মোট ২৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ৪০৪ জন চাষি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। নথিভুক্ত করার পর ধান বিক্রির জন্য অনলাইনে টাইম স্লট বুক করতে হয়। তারপর নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে নির্ধারিত ক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে ধান বিক্রি করতে হয় চাষিকে। ধান বিক্রির তিনটি কাজের দিনের মধ্যে দাম চাষির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    নভেম্বর মাসে নতুন ধান কম পরিমাণে ওঠে। তাই নভেম্বরে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা কম রাখা হয়। ডিসেম্বর মাস থেকে নতুন ধান ওঠার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এবার ডিসেম্বর মাসে ২৫ লক্ষ টন ও জানুয়ারিতে ২২ লক্ষ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। জুন মাস পর্যন্ত ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে মোট ৬৭ লক্ষ টন ধান কেনার টার্গেট ধরা হয়েছে। 

    রাজ্যে এবার ধানের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছে সরকার। বৃষ্টি ধানচাষের অনুকূল ছিল। ধানচাষ যেসব জেলায় বেশি হয় সেখানে বন্যা হয়নি।  পাকা ধান ওঠার সময় অতিবৃষ্টি ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। ধানকাটার মরশুম এখন জোরকদমে চলছে। আপাতত আবহাওয়া শুকনো থাকবে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে সব মিলিয়ে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী রাজ্য সরকার। বেশি ফলন হওয়ার জন্য খোলাবাজারে ধানের দাম কম আছে। সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্যের (এমএসপি) তুলনায় খোলাবাজারে দাম অনেকটা কম। তাই সরকারের কাছে চাষিদের ধান বিক্রির উৎসাহ বেশি। ধান কেনার পরিমাণ সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধির এটাই বড়ো কারণ বলে আশা করছেন খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। 
  • Link to this news (বর্তমান)