বি টি রোডে সাইকেলের পৃথক লেন দাবি অরণ্যর সহপাঠীদের, বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় ছাত্র মৃত্যুর জের
বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুল যাওয়ার সময় অরণ্যর মতো আর যাতে কাউকে বেপরোয়া বাসের বলি হতে না হয়, তার জন্য সক্রিয় হল সহপাঠীরা। বি টি রোডের পাশাপাশি কলকাতার সমস্ত বড় রাস্তাতে সাইকেলের জন্য পৃথক লেনের দাবিতে প্রচারে নেমেছে ডব্লুডব্লুএ কাশীপুর ইংলিশ স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। এই ইস্যুতে আপাতত তারা অনলাইনে প্রচারে নেমেছে। আগামী দিনে তারা এনিয়ে বৃহত্তর পথে পা বাড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে।
শুক্রবার সকালে সাইকেলে চেপে বাড়ি থেকে স্কুল যাওয়ার পথে বি টি রোডে চিড়িয়ামোড়ের কাছে বেসরকারি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় নবম শ্রেণির ছাত্র অরণ্য চক্রবর্তী। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে কার্যত ভেঙে পড়েছে স্কুলের সহপাঠীরা। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বরানগরের শশীভূষণ নিয়োগী গার্ডেন লেনের বাড়ি থেকে বি টি রোডের একদম বাঁ দিক ধরেই সাইকেলে যাচ্ছিল অরণ্য। কিন্তু শ্যামবাজারমুখী দুই বেসরকারি বাস রেষারেষি করতে গিয়ে, ২৩৪ রুটের বাসটি পিষে দেয় ছোট্ট অরণ্যকে। বাসটি এতটাই বেপরোয়া ছিল যে অরণ্যকে পিষে দেওয়ার পরও তার দেহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়!
উল্লেখ্য, দূষণহীন পরিবেশ বান্ধব যান হিসেবে ইউরোপ সহ প্রথম বিশ্বের অনেক দেশেই সাইকেলের কদর রয়েছে। কলকাতা শহরে সাইকেলের জন্য পৃথক লেনের দাবি নতুন কিছু নয়। অতীতেও একাধিক সংগঠন এনিয়ে কলকাতায় সরব হতে দেখা গিয়েছে। এমনকী বাম আমলে ই এম বাইপাসে বিআরটিএস প্রকল্পে সাইকেলের জন্য পৃথক লেন বা করিডরের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে তা এখনও লালফিতের ফাঁসে বন্দি! প্রসঙ্গত, করোনার সময় থেকে কলকাতা শহরে সাইকেলের ব্যবহার এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু রাজপথে সাইকেল চালকদের সুরক্ষা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু রয়েই গেল!