বাংলার সব ব্লক ও গ্রামীণ হাসপাতালে চালু হবে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান
বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ক্ষমতায় আসার পরের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালে এই প্রকল্প চালু করে চমকে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সারা দেশ অবাক হয়ে গিয়েছিল ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানের মতো জনমুখী প্রকল্প দেখে।
ওষুধে যে ৫০, ৬০, ৭০ শতাংশ বা তারও বেশি ছাড় দেওয়া সম্ভব এবং তা দিলে গরিব, মধ্যবিত্ত, এমনকি বিত্তবানদেরও যে কতটা সুরাহা হতে পারে—প্রমাণ করে দিয়েছিলেন মমতা। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে ১৩ বছরের পুরোনো সেই প্রকল্পকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
গ্রামে, বাড়ির কাছে বা দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য মোবাইল মেডিকেল ইউনিট চালু হয়েছে সদ্য। এই পরিষেবা চালুর পর থেকে একের পর এক ক্যাম্প করে কামাল করছে ভ্রাম্যমান হাসপাতালগুলি। সেই প্রকল্পের মতোই এবার গ্রামীণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানও। ২৪ নভেম্বর এক নির্দেশনামা জারি করে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। দপ্তর সূত্রে খবর, এবার রাজ্যের সবকটি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (বিপিএইচসি) এবং গ্রামীণ হাসপাতালে (আরএইচ) হবে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান বা ফেয়ার প্রাইস মেডিসিন শপ। বর্তমানে মেডিকেল কলেজ, জেলা, মহকুমা এবং স্টেট জেনারেল হাসপাতাল মিলিয়ে সবশুদ্ধ ১১৭টি সরকারি হাসপাতালে রয়েছে ফেয়ার প্রাইস শপ। এদিকে, রাজ্যে ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গ্রামীণ হাসপাতালের সংখ্যা ৩৪৫। সবগুলিতেই সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এই ধরনের ওষুধের দোকান চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য। তার জন্য টেন্ডার ডাকতে বলা হয়েছে স্থানীয় জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনকে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে চালু ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানে হাসপাতাল ভেদে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ, কোথাও তারও বেশি ছাড় মেলে। আপাতত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের বলা হয়েছে টেন্ডার ডাকতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করতে বিপিএইচসি বা গ্রামীণ হাসপাতালগুলির প্রতিটিকে কমপক্ষে ১১০ বর্গফুটের ঘরের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। ইচ্ছুক বেসরকারি সংস্থা নির্বাচন করবে চার সদস্যের জেলাওয়ারি টেন্ডার সিলেকশন কমিটি। চেয়ারর্পাসন হবেন অতিরিক্ত জেলাশাসক পদমর্যাদার আধিকারিক। জেলাশাসক তাঁকে মনোনীত করবেন। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের মনোনয়নে কমিটিতে থাকবেন উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পদমর্যাদার আধিকারিক। এছাড়াও সিএমওএইচ অফিসের অ্যাকাউন্টস অফিসার এবং জেলার সহকারী অধিকর্তা (ড্রাগ কন্ট্রোল)-কে সিলেকশন কমিটিতে রাখা হবে। মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে এই ওষুধের দোকানগুলি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্যভবন।