মামলার জট কাটিয়ে দেড় লক্ষ একর খাস জমির স্বত্ব দেবে রাজ্য
বর্তমান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বাম আমলে জমি ‘ভেস্টিং’ (সিলিংয়ের অতিরিক্ত জমি সরকারি খাতায় তোলা) পর্বের পর কেটে গিয়েছে চার দশকেরও বেশি সময়। কিন্তু খাস হয়ে যাওয়া এমন বহু জমি নিয়ে এখনও মামলা চলছে বিভিন্ন আদালতে। জমিগুলির মালিকরাই সেই সময়কার ভেস্টিংকে অবৈধ দাবি করে আইনি পথের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গত শতাব্দীর সাত-আটের দশক থেকে সেই টানাপোড়েন অব্যাহত। খাতায় কলমে এই সমস্ত জমির উল্লেখ সরকারের এক নম্বর খতিয়ানে থাকলেও, তা কাজে লাগাতে পারছে না নবান্ন। আবার ‘তথাকথিত’ মালিকরাও সেই অর্থে কিছু করে উঠতে পারছেন না ওই জমিতে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এই সমস্যায় ইতি টানতে এবার উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। নবান্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মামলা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট দাবিদারকেই জমির লিজ, কিংবা ফ্রি হোল্ড বা মালিকানা স্বত্ব দেওয়া হবে। গত সোমবারের বৈঠকেই এই নিয়ম চালু করার ব্যাপারে সিলমোহর দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। শীঘ্রই ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের তরফে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং গাইডলাইন জারি করা হবে বলেই সূত্রের খবর। বর্তমানে এমন জমির পরিমাণ কত তা খতিয়ে দেখতে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। অভিজ্ঞ আমলাদের মতে, রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের জেরে মামলার জট কাটিয়ে অন্তত দেড় লক্ষ একর জমির লিজ বা মালিকানা স্বত্ব দেওয়া সম্ভব হবে।
আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির মালিকানাধীন জমির সর্বোচ্চ সীমা (ল্যান্ড সিলিং) হল ২৪.২২ একর। আর সেচযুক্ত এলাকা হলে ১৭.৩ একর। এর বেশি হলেই অতিরিক্ত জমির ‘ভেস্টিং অর্ডার’ করে রাজ্য সরকার। সেটা ওয়েস্ট বেঙ্গল এস্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যাক্ট ১৯৫৩ এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ল্যান্ড রিফর্মস অ্যাক্ট ১৯৫৫ মেনে। যদিও এর বিরুদ্ধে ল্যান্ড ট্রাইবিউনাল সহ বিভিন্ন আদালতের দ্বারস্থ হন জমিহারারা। জানা গিয়েছে, রাজ্যের মোট জমির পরিমাণ ৮৮ হাজার ৭৫২ বর্গ কিলোমিটার বা ২ কোটি ১৯ লক্ষ ৩১ হাজার ৯৭ একর। আর জমি ‘ভেস্টিং’ হয়েছে ৩৩.৫ লক্ষ একর। এর মধ্যে বনাঞ্চল ১০.৭৮ লক্ষ একর, কৃষিজমি ১৪.৬৫ লক্ষ একর এবং অ-কৃষি জমি ৮.০৭ লক্ষ একর। পাট্টা বা অন্যান্যভাবে বিতরণ হয়েছে ১০.৬৫ লক্ষ একর খাস জমি।
রাজ্যে পালাবদলের পর, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর নয়া ল্যান্ড অ্যালটমেন্ট পলিসি নিয়ে আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেই কারণে শুধুমাত্র তার আগে যে যে খাস জমির জন্য মামলা দায়ের হয়েছিল, সেগুলির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে লিজ বা মালিকানা স্বত্ব দেওয়ার নয়া নিয়ম। তবে ভূমিজীবী রক্ষা সমিতির সদস্য মামলকারীদের আপাতত এই নিয়মের বাইরে রাখা হচ্ছে। সম্ভবত ভূমি সংস্কার আইনের বেশ কিছু ক্ষেত্র নিয়ে হওয়া মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকায় রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত! আবার পাট্টা দেওয়া জমির ক্ষেত্রেও নয়া নিয়ম কার্যকর হবে না বলে সূত্রের খবর।