মৃত বিএলও-দের পরিবারের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ ও ধস্তাধস্তি
দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
শনিবার ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের সামনে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, এসআইআর প্রক্রিয়ার বিশৃঙ্খলা এবং পরপর বিএলও-দের মৃত্যুর প্রতিবাদে এ দিন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দপ্তরের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভে শামিল হন ‘বিএলও অধিকার রক্ষা মঞ্চ’-এর সদস্যরা। তাঁদের মূল দাবি ছিল, মৃত কর্মীদের পরিবারকে দ্রুত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হোক এবং এসআইআর সংক্রান্ত ‘অপরিকল্পিত’ কাজের নিয়ম অবিলম্বে সংশোধন করা হোক।
এ দিন বিকেলে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ও ১২ জন রোল পর্যবেক্ষকের সঙ্গে সিইও মনোজ আগরওয়ালের বৈঠক চলছিল। সেই সময়েই বিক্ষোভকারীরা সিইও দপ্তরের সামনে ভিড় বাড়াতে শুরু করেন। দপ্তরের ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। আর তার পর থেকেই গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
Advertisement
মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের বিএলও জাকির হোসেনের মৃত্যুর খবর শুক্রবারই সামনে আসে। তাঁর পরিবার এ দিন সিইও দপ্তরের সামনে হাজির হয়ে দাবি করে, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং এসআইআর সংক্রান্ত ‘অ্যাপ সমস্যা’ই জাকিরকে শেষ করে দিয়েছে।
জাকিরের ছেলে ইমাদুল হোসেন বলেন, ‘এসআইআর-এর কাজের জন্য অ্যাপ বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। বাবা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন। উপর থেকে কাজের চাপও ছিল। সেই চাপেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
জাকিরের ভাই জোসেফের অভিযোগ আরও জোরালো। তিনি বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে এসআইআর চালানো হচ্ছে। কমিশন যে চাপ দিচ্ছে, তাতে আমার দাদা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। আমরা সঠিক তদন্ত চাই।’
বিকেলের বৈঠক শেষে স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত এবং সিইও মনোজ আগরওয়াল ভবন থেকে বেরোতেই পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা সরাসরি সিইও-র গাড়ি ঘিরে ফেলেন। অনেকে গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সিইও-কে দপ্তরে পৌঁছে দেন পুলিশ কর্মীরা। এ সময় এক বিএলও আহত হন বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ সদস্যরা জানান, ‘সকাল থেকে এখানে বসে থেকেও কমিশনের তরফে কোনও সাড়া নেই। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা উঠব না।’
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিনে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থেকে জলপাইগুড়ির মালবাজার, সর্বত্রই এসআইআর-এর মধ্যে একের পর এক বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে। ‘কাজের চাপ’ শব্দটাই এখন রাজ্যের বিভিন্ন মহলে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
বেঙ্গল চেম্বারে দিল্লির নিযুক্ত ১৩ জন রোল পর্যবেক্ষকের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি রাজ্যের ১২টি জেলায় ১২ জন অভিজ্ঞ আধিকারিককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ‘এসব কাগুজে ঘোষণা নয়, বাস্তবে কর্মীদের নিরাপত্তা আর কাজের চাপ কমানোর ব্যবস্থা দেখতে চাই।’ এখনও পর্যন্ত সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ থামেনি। পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে পুলিশ।