• BLO ভাতা: ফের অভিষেকের তিরে কমিশন
    এই সময় | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • এই সময়: জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ‘গ্লোরিফাই’ করতে বিজেপির প্রোপাগান্ডা বাহিনী চার মাস আগের একটি নির্দেশিকাকে হাতিয়ার করছে বলে এক্স হ্যান্ডেলে তোপ দাগলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পর্যবেক্ষণ, ‘এই কৌশল এটা প্রমাণ করে যে, নির্বাচন কমিশন ‘সার’ পরিচালনা করতে শুধু ব্যর্থ-ই নয়, পুরো সিস্টেম অচল হয়ে পড়েছে।’

    অভিষেক শনিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘গেরুয়া শিবির সমস্ত অস্ত্র প্রয়োগ করলেও তৃণমূল ২০২১ সালের তুলনায় আরও বেশি জনসমর্থন নিয়ে জয়ী হবে।’ তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শুক্রবার চিফ ইলেকশন কমিশনারের কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা প্রকাশ করার পক্ষে শুক্রবার রাতেই সরব হয়েছিলেন অভিষেক।

    একটি সংবাদ সংস্থা শনিবার তাদের এক্স হ্যান্ডেলে কমিশনের গত ২ অগস্টের একটি নির্দেশিকা পোস্ট করে। সেখানে বলা হয়েছে, বিএলও–দের ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। আর বিএলও সুপারভাইজারদের ভাতা ১২ হাজার টাকা থেকে ১৮ হাজার করা হয়েছে।

    এরপরেই অভিষেক ওই সংবাদ সংস্থার পোস্টকে ট্যাগ করে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘ফেক এক্সাইটমেন্ট’ তৈরি এবং কমিশনকে মহিমান্বিত করতে বিজেপির প্রোপাগান্ডা বাহিনী চার মাস পুরোনো নির্দেশিকাকে রিসাইক্লিং করেছে। এটা প্রমাণ করে ‘সার’ এর কৌশল শুধু ব্যর্থ-ই হয়নি মানুষের সামনে মুখ থুবড়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মেশিনারি, ইসি, ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, কেন্দ্রীয় বাহিনী, নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া, বিচার ব্যবস্থার একাংশকে ব্যবহার করা হলেও বিজেপি জানে বাংলা তাদের হারাবে এবং ২০২১ সালের তুলনায় আরও বেশি জনসমর্থন নিয়ে তৃণমূল প্রত্যাবর্তন করবে।’

    দিল্লিতে শুক্রবার তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চিফ ইলেকশন কমিশনারের বৈঠক নিয়েও অপপ্রচার হয়েছিল বলে অভিযোগ। সে কারণে অভিষেক শুক্রবারই ওই বৈঠকের ফুটেজ প্রকাশ করার দাবি করেছিলেন। এই আবহে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন৷ তার আগে শনিবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেন তৃণমূলের লোকসভা এবং রাজ্যসভার একাধিক সাংসদ৷

    রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়ানের দাবি, ‘আমরাও যথাযথ ‘সার’ চাই৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক৷ ‘সার’ নিয়ে কেন এত তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে? এ ভাবে দ্রুততার সঙ্গে ‘সার’ পরিচালনা করার কী অর্থ? নোটবন্দির পরে কি কালো টাকা বন্ধ করা গিয়েছে? বিএলও-দের উপরে অযথা চাপ তৈরি করা হচ্ছে৷’

    ডেরেকের সুরেই এ দিন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন লোকসভার সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, সাজদা আহমেদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে৷ বিএলও-দের আত্মহত্যার বিবরণ তুলে ধরে চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটকের সিনেমা ‘মেঘে ঢাকা তারা’–র নায়িকা নীতার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে প্রতিমা বলেন, ‘দাদা, আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম বলেছিলেন নীতাও৷ তাঁর মতোই বাঁচতে চেয়েছিলেন বিএলও রিঙ্কু তরফদার৷ কিন্তু তাঁকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি৷’

    প্রতিমার অভিযোগ, ‘নির্বাচন কমিশন যে অমানবিক আচরণ করছে, তার জেরে তৈরি হওয়া আতঙ্কে এই মৃত্যু মিছিল দেখতে হচ্ছে৷’ সাংসদ সাজদা আহমেদের দাবি, ‘সার’–এর জেরে বাংলায় যে মৃত্যু মিছিল চলছে, তার দায় নিতে হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে৷’

    শনিবার সাকেত বলেন, ‘আকাশের নীচে থাকা সব প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন৷ কিন্তু আমাদের প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি তাঁরা৷’ এ দিন ডেরেক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বলছে, ৯ তারিখের পরে সব ঠিক করে দেবে৷ এটা অমানবিক আচরণ৷ যদি নির্বাচন কমিশনের কিছু লুকোনোর না থাকে, যদি স্বচ্ছ হয়, তাহলে আমাদের সঙ্গে বৈঠকের ট্রান্সস্ক্রিপ্ট প্রকাশ করুক৷ এটা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস, আমরা জানি কী করে লড়াই করতে হয়৷’

  • Link to this news (এই সময়)