আজকাল ওয়েবডেস্ক: লাগাতার ধর্ষণ। আর তার জেরেই অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের এক কিশোরী। ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নির্যাতিতার এক প্রতিবেশী দাদার বিরুদ্ধে। তবে এখনও পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। থানায় ধর্ষণের ঘটনাটি ঘিরে লিখিত অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের বোলপুরে। জানা গেছে, নির্যাতিতার ঠাকুমা জানিয়েছেন, তাঁদের একটি চায়ের দোকান আছে। সেখানেই ওই অভিযুক্ত তরুণ দিনের পর দিন রাতের অন্ধকারে এসে নাতনিকে ধর্ষণ করত। এর জেরেই গর্ভবতী হয়ে পড়েছে ওই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী তিন মাসের গর্ভবতী। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সে বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে জানায়। গত কয়েক মাস ধরে খুনের হুমকি দিয়ে লাগাতার ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল বলে জানিয়েছে নির্যাতিতা কিশোরী। দিন কয়েক আগেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কাঁদতে কাঁদতে যৌন হেনস্থার বর্ণনা দেয় সে। এরপরই বোলপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে পরিবার।
চলতি মাসেই হুগলিতে আরও এক ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভোর রাতে মশারি কেটে চার বছরের শিশুকে তু্লে নিয়ে গিয়ে পাশবিক অত্যাচার। তারকেশ্বরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে থানায় তুমুল বিক্ষোভ। চার বছরের শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়েছে তারকেশ্বরে। দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছে বিজেপি। প্রথমে তারকেশ্বর গ্রামীন হাসপাতালে পুলিশের সামনে বিক্ষোভ, পরে থানার সামনে বিক্ষোভ বিজেপির। অভিযোগ যৌন নির্যাতনের ঘটনায় উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পুলিশ।
শনিবার ভোরে তারকেশ্বর স্টেশন চত্বরে আশ্রয় নেওয়া চার বছরের শিশুকন্যাকে ঘুমের মধ্যে মশারি কেটে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঠাকুমার পাশেই শুয়েছিল ওই শিশু। শিশুর পরিবারের দাবি শনিবার ভোর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না শিশুটিকে। হন্যে হয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।
শনিবার দুপুরে স্টেশন সংলগ্ন ড্রেন থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। তারকেশ্বর গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ শিশুটির যৌনাঙ্গ থেকে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল। তাহলে হাসপাতাল থেকে পুলিশে কেন খবর দেওয়া হয়নি, উঠছে প্রশ্ন।
প্রাথমিক চিকিৎসার পর দুপুরেই শিশুটিকে নিয়ে পুলিশের কাছে যায় শিশুর পরিবারের সদস্যরা। থানা থেকে তাদের চলে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ।যদিও বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার পর ফের মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালের মধ্যেই বিক্ষোভ দেখান বিজেপির নেতা কর্মীরা। পাশাপাশি হাসপাতালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিজেপি।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, চার বছরের শিশুর উপর চরম অত্যাচার চালানো হয়েছে। যে বা যারা ঘটিয়েছে পুলিশ তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক।পুলিশ জানিয়েছে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মৌখিক অভিযোগ পেয়েই প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং শিশুটির মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছে তারকেশ্বর থানার পুলিশ।
তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় জানান, 'অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। যে জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছে সেটি রেল পুলিশের অন্তর্গত। রেল পুলিশের নিরাপত্তার অভাব রয়েছে বলে আমার মনে হয়। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে সকালেই অভিযোগ জানানোর কথা জানানো হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরিত করার কথা শুনে দুঃস্থ ওই পরিবার থানা থেকে চলে যায়। পরবর্তী সময় শিশুটির চিকিৎসা সহ সব রকম ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।'
বিজেপি আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক পর্না আদক বলেন, 'একটা চার বছরের শিশুর নিরাপত্তা নেই।কে করেছে আমরা এর সঠিক বিচার চাই।' জানা গেছে, আহত শিশুটিকে চন্দননগর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হুগলী জেলা গ্ৰমীন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।