আজকাল ওয়েবডেস্ক: নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বানপুর মাটিয়ারী এলাকায় বিএসএফের গুলিতে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। জানা গেছে, গভীর রাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে চোরাচালানের চেষ্টা করছিল ওই ব্যক্তি। সে সময় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী তাকে দেখে প্রথমে সতর্কবার্তা দেয়। অভিযোগ, সতর্কবার্তার পর ওই ব্যক্তি উল্টো বিএসএফ জওয়ানদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে।
আত্মরক্ষার্থে বিএসএফের পক্ষ থেকে গুলি চালানো হলে, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। যদিও এখনও মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার পর রাতে বিএসএফ মৃতদেহটি উদ্ধার করে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে।হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর দেহটি কৃষ্ণগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই দেহ থানার মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত হলে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঠিক বিবরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে পুরো ঘটনাটি নিয়ে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। বিএসএফের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সময় কেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং মৃত ব্যক্তি আদৌ চোরাচালান চক্রের সদস্য কিনা, সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে টহল বাড়ানো হলেও এ ধরনের ঘটনা প্রায়শই ঘটে।
পুলিশের অনুমান, রাতের অন্ধকারকে সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা করছিল, আর সেই সময়েই মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনার জেরে এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ালেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ ও বিএসএফ উভয়েই ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
গতবছর জুন মাসে নদিয়ার আন্তর্জাতিক সীমান্তে গত রাতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর বাংলাদেশি গরু পাচারকারীরা হামলা চালায়। যার জেরে গুরুতর জখম হয়েছেন এক বিএসএফ জওয়ান। চোরাচালান বন্ধে বিএসএফ জওয়ানদের ক্রমাগত প্রচেষ্টায় হতাশ হয়ে চোরাকারবারীরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সোমবার রাত ১০টা নাগাদ এই আক্রমণটি ঘটেছিল, যখন ডিউটি পয়েন্টে নিয়োজিত একজন সতর্ক বিএসএফ জওয়ান ৬-৭ জন চোরাকারবারীর সন্দেহজনক কার্যকলাপ বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন, যা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
তথ্য অনুযায়ী, থার্মাল ইমেজার (HHTI) এর সঙ্গে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা ৬-৭ জনের সন্দেহজনক গতিবিধি ও সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করতে দেখেন। তখন তিনি অবিলম্বে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তার নিকটতম সৈনিককে সতর্ক করেন। এসময় ৩ থেকে ৪ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারী ধারাল অস্ত্র ও তার কাটার দিয়ে সজ্জিত হয়ে ইম্প্রোভাইজড বেড়া কেটে সীমান্ত রাস্তা পার হয়ে ভারতের দিকে চলে যায়। এই পয়েন্টে পোস্ট করা সৈনিক অনুপ্রবেশকারীদের থামতে সতর্ক করে এবং তাদের চ্যালেঞ্জ করে তাদের দিকে ছুটে যায়। কিন্তু চোরাকারবারীরা তা উপেক্ষা করে সৈনিকের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে অগ্রসর হতে থাকে এবং তাকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে।
প্রতিশোধ হিসাবে, জওয়ান আরও মারাত্মক কৌশল অবলম্বন করে, তার পাম্প অ্যাকশন গান (PAG) থেকে এক রাউন্ড গুলি চালায়। এর পরে, বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে বিএসএফ জওয়ানকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে, যার কারণে জওয়ানের নিতম্ব, কোমর এবং ঘাড়ে গুরুতর জখম হয়। পরিস্থিতি গুরুতর দেখে তার সহযোগী তার পিএজি থেকে গুলি চালায়, কিন্তু ততক্ষণে বাংলাদেশি দুর্বৃত্তরা অন্ধকার ও ঘন ঝোপের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আহত সৈনিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবিলম্বে কলকাতার এসএসকেএম ট্রমা সেন্টারে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পর, বিএসএফ কর্মকর্তারা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সাথে কমান্ড্যান্ট পর্যায়ের বৈঠক করেন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাংলাদেশি দুর্বৃত্তদের নাম শেয়ার করেন এবং তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জন্য বিজিবিকে অনুরোধ করেন।সূত্রের খবর, হামলাকারীরা বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দা। বিএসএফ ঘটনাটি সম্পর্কে ধনতলা থানায় অবহিত করেছে এবং একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।