চম্পক দত্ত: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার গোপীগঞ্জ–সুলতাননগর সড়কের সয়লা জোড়ামন্দির এলাকায় ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। সূত্রের খবর, দম্পতির আসল বাড়ি হাওড়া জেলার ভাটোরা এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। গৃহবধূর অভিযোগ,স্বামী রাজু দাস তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সেই সমস্যার সমাধান করতে শনিবার সন্ধ্যেবেলা স্ত্রী সালমা খাতুনকে সয়লা এলাকায় দেখা করতে ডাকেন রাজু।
সালমা টোটো করে সেখানে পৌঁছলে রাস্তার মধ্যেই দু’জনের মধ্যে ফের ঝগড়া শুরু হয়। তর্কাতর্কির মাঝে টানা হেঁচড়ার ফলে সালমার কোলে থাকা তিন মাসের শিশুর গায়ে আঘাত লাগে। আঘাত লাগার বিষয়টি টের পাওয়ার পর দ্রুত শিশুটিকে সোনাখালি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে দাসপুর থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাজু দাসকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। শিশুর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে। স্বামী–স্ত্রীর বিবাদের জেরে নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হতবাক স্থানীয় মানুষজন।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই হাওড়ার ডোমজুড়ে তিন মাসের নাতিকে খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ঠাকুমার বিরুদ্ধে। জানা যায়, গত মঙ্গলবার ডোমজুড়ের শলপ পীরডাঙ্গায় ভোরবেলায় নিজের ঘুমন্ত নাতিকে পুকুরে ফেলে খুন করে ঠাকুমা সারথি বন্দ্যোপাধ্যায়(৬০)। এই ঘটনায় ডোমজুড় থানা পুলিস তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে।
ধৃতকে গত বুধবার হাওড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এরপর দুপুরে ঠাকুমাকে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিস। তাকে বিরাট পুলিস বাহিনী এবং ব়্যাফ ঘিরে তাকে বাড়ি থেকে পুকুর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। তার কোলে একটি বড় পুতুল ছিল। পুতুলের মাধ্যমে সে পুলিসকে দেখায় কীভাবে নিজের তিন মাসের নাতিকে গলা টিপে খুন করার পর পুকুরে ফেলে দেয়। পুলিসের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানতে পেরেছে বউমার সঙ্গে তার বনিবনা না হওয়ার কারণে এই ঘটনা। গ্রামবাসীরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ঠাকুমার কঠোর সাজা দাবি করেছে।