বিশেষ সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: ‘কেন্দ্রের ফতোয়া’ মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। সংসদের অধিবেশনে জয় হিন্দ, বন্দে মাতরম স্লোগান দেবেন তৃণমূল সাংসদরা। জানিয়ে দিলেন দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতেই গর্জে ওঠেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানান, কেন্দ্রের এই বিজ্ঞপ্তি সরাসরি বাংলা ও জাতীয় স্তোত্রের উপর আক্রমণ। বাংলার আইডেনটিটি নষ্ট করার চক্রান্ত। এই চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবে না। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিবাদে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার কথা ভাবছে কেন্দ্র। বিতর্কিত অংশটি বাদ দিয়ে ফের নয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের আচরণবিধি বেঁধে দিতে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, অধিবেশনে ‘বন্দেমাতরম’ বা ‘জয়হিন্দ’ ধ্বনি দেওয়া যাবে না। কেন্দ্রের এই বিজ্ঞপ্তির পরেই শুরু হয় বিতর্ক। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে কেন্দ্র বিজ্ঞপ্তি দিক বা না দিক, তৃণমূল শীতকালীন অধিবেশনে কক্ষের ভিতর জয়হিন্দ ও বন্দেমাতরম ধ্বনি তুলবেই। শনিবার তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ‘ব্রায়েন বলেন, “কেন্দ্রের ফতোয়া আমরা মানব না। কেন্দ্র যদি বন্দে মাতরম, জয়হিন্দের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা নাও তোলে, তাহলেও আমরা অধিবেশনের মধ্যে এই স্লোগান দেব।”
গত ২৪ নভেম্বর প্রকাশিত সাংসদদের আচরণ সংক্রান্ত এই বিধি প্রকাশ করে রাজ্যসভার সচিবালয়। বিতর্কিত এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতেই প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানান, ক্ষমতায় আছে বলে বিজেপি যা ইচ্ছা তাই করছে। ওরা ভুলে যাচ্ছে, বাংলা দেশের বাইরে নয়। ওরা যা খুশি করবে আর আমরা চুপ করে থাকব তা হবে না। এসব বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যসভার এই নিয়মকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা জানান, এই সব আবেগের সঙ্গে সংঘাত বাঞ্ছনীয় নয়। কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখনও এটা আমাদের দেশের স্লোগান। এর সঙ্গে যে টক্কর নিতে আসবে, সে চুরমার হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলা ভারতের বাইরে নয়। এটি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এবং আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, বাংলা সর্বদা আমাদের দেশের গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, ঐক্য এবং বৈচিত্রের জন্য লড়াই করে।”
১৯৭০ সালে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দেমাতরম’ ১৯৫০ সালে দেশের জাতীয় স্তোত্র হিসাবে স্বীকৃতি পায়। কবিতাটি প্রথমবার ১৮৮২ সালে তাঁর উপন্যাস আনন্দমঠ-এ প্রকাশিত হয়। ‘বন্দেমাতরম’ সংসদে গাওয়ায় কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।