সীমান্তে চোরাচালানের চেষ্টা রুখে দিল বিএসএফ। পাশাপাশি বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি পাচারকারীর মৃত্যুও হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার মাটিয়ারি-বানপুর সীমান্ত এলাকায়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে অপর পাচারকারীরা বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি কাটার, চারটি ধারালো অস্ত্র, ৯৬ বোতল ফেনসিডিল কাশির সিরাপ এবং দুই বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়।
নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বানপুর মাটিয়ারী এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে । জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে চোরাচালানের চেষ্টা করছিল ওই ব্যক্তি। সে সময় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী তাকে দেখে প্রথমে সতর্কবার্তা দেয়। অভিযোগ, সতর্কবার্তার পর ওই ব্যক্তি উল্টো বিএসএফ জওয়ানদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে বিএসএফের পক্ষ থেকে গুলি চালানো হলে, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। যদিও এখনও মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার পর মৃতদেহটি উদ্ধার করে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর দেহটি কৃষ্ণগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই দেহ থানার মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঠিক বিবরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে পুরো ঘটনাটি নিয়ে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। বিএসএফের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সময় কেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং মৃত ব্যক্তি আদৌ চোরাচালান চক্রের সদস্য কিনা, সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ২৯ নভেম্বর ৩২ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা সীমান্তের কাছে ৬-৭ জন ভারতীয় চোরাকারবারিকে প্লাস্টিকের বান্ডিল বহন করতে দেখে। তারা বেড়ার ওপারে এই বান্ডিলগুলি ছুঁড়ে মারছিল, যেখানে অন্য দিকে বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা সেগুলো সংগ্রহ করছিল। জওয়ান তাদের থামতে সতর্ক করে এবং সতর্কতা হিসেবে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায়, কিন্তু এর কোনও ফল হয় না। চোরাকারবারিদের চোরাচালান থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে, জওয়ান তাদের দিকে এগিয়ে যায়। এই সময়, জওয়ানরা লক্ষ্য করেন বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ধারালো অস্ত্র রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব পেরে বাধ্য হয়ে গুলি চালায় বিএসএফ। সেই গুলিতেই প্রাণ হারান ওই ব্যক্তি।