• বিহারের রাজনীতিতে ‘অস্তাচলে’ লালু! বাড়ি বদলে কার্যত ‘অন্তরালে’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
    প্রতিদিন | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিহারে ফের সরকার গঠনের পরেই লালু পরিবারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয় নীতীশ সরকার। সরকারি বাংলো খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই বাংলো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীর নামে বরাদ্দ ছিল। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খুললেও এবার জানা গিয়েছে সত্যি বাড়ি ছাড়ছেন লালু।

    জানা গিয়েছে ১০ সার্কুলার রোডের বাড়ি ছেড়ে দিচ্ছেন লালু যাদব। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কারণেই বাড়ি বদল হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। নতুন বাড়িতে কড়া নিয়মের মধ্যে থাকবেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই বাড়িতে মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে ব্যপকভাবে। যেকোনও অপরিকল্পিত সভা এড়ানো হবে। লালুর সঙ্গে যাঁরা দেখা করতে আসবেন তাঁদের সকলের স্ক্রিনিং করা হবে। এমনকি দলের কর্মীদেরও আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে এইও বাড়িতে আসার জন্য। জানা গিয়েছে এখন যাদব পরিবারের প্রাথমিক লক্ষ্য লালু যাদবের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার।

    রজের তরফে জানা গিয়েছে, মেডিকেল টিম নিয়মিত লালুর দেখাশোনা করবে। ডাক্তারদের তরফে লালু যাদবের সম্পূর্ণ মানসিক শান্তি এবং শারীরিক বিশ্রাম নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সেই কারণে এই নতুন বাড়িতে, রাজনৈতিক আলোচনা সীমিত রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ঘরছাড়ার এই নোটিস সামনে আসার পর নীতীশ সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন লালু কন্যা রোহিণী আচার্য। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘লক্ষ লক্ষ মানুষের মসিহা লালু প্রসাদ যাদবকে অপমান করাই সুশাসন বাবুর উন্নয়নের মডেল। কিন্তু সরকারি ভবন থেকে তাঁকে সরিয়ে দিলেও, লক্ষ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন লালু। বিহারের মানুষের হৃদয় থেকে তাঁকে কীভাবে সরাবেন?’ পাশাপাশি সরকারের কাছে তাঁর আর্জি, লালুর স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক মর্যাদাকে সম্মান জানাক সরকার।

    লালুর বাড়ি বদল আসলে আরজেডি-র অন্দরে নেতৃত্বের রদবদলের বড় বার্তা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। লালুর মুখ্যমন্ত্রীত্বের সময় ১ অ্যানে মার্গের বাড়ি এবং পরবর্তীকালে রাবড়ি দেবীর আমলে ১০ সার্কুলার রোডের বাড়ির দরজা কার্যত সারাদিন খোলা থাকত। এই বাসভবনগুলি আরজেডি-র প্রধান দপ্তর এবং জনগণের পঞ্চায়েত হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। সারাদিনের যেকোনও সময়ে মানুষ এখানে এসেছেন সমস্যার সমাধানের খোঁজে। এবার বদল হতে চলেছে সেই প্রথা।

    ২০২৫ বিধানসভা নির্বাচনে তেজস্বীকে তাড়া করেছে লালুর সময়ে বিহারের জঙ্গলরাজের অতীত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা তেজস্বীর মধ্যে লালুর ছায়া আসলে ক্ষতি করছে আরজেডি -র ভবিষ্যতের। তাই নির্বাচনের পরেই রাজনৈতিক জীবন থেকে কার্যত অন্তরালে চলে যাচ্ছেন দলের প্রধান। যদিও, এখনও লালু যাদবই দলের আবেগ এবং আদর্শের মূল ভিত্তি। কিন্তু দলের দৈনন্দিন কার্যক্রম এখন থেকে তরুণ নেতৃত্বের হাতেই থাকবে তা প্রায় নিশ্চিত। এই ঘটনা বিহারের রাজনীতিতে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি বলে মনে করছেন বহু রাজনৈতিক নেতা। লালু যাদবের নতুন বাড়ি শুধুমাত্র বাসস্থান পরিবর্তন নয়। আসলে বিহারের রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রতীক। জনসাধারণের অবাধ প্রবেশাধিকারের যুগ থেকে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বে একটি শান্ত, আরও কৌশলগত রাজনৈতিক দল হওয়ার পথে আরজেডি-র পদক্ষেপ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)