‘বাঁচতে চাই, কিন্তু উপায় নেই’, SIR-এর চাপে আত্মঘাতী আরও এক বিএলও!
প্রতিদিন | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর-এ অমানুষ কাজের চাপে আত্মঘাতী আরও এক বিএলও! রবিবার সকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলে পেশায় শিক্ষক ৪৫ বছর বয়সি সর্বেশ সিং। মৃত বিএলও উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদের বাসিন্দা। মৃতদেহের পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। যেখানে, এসআইআরে প্রবল কাজের চাপের অভিযোগ তুলেছেন সর্বেশ। লিখেছেন, ‘বাঁচতে চাই, কিন্তু উপায় নেই।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৮ বছর ধরে জাহিদপুরে এক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন তিনি। এরই বিএলও হিসেবে এসআইআর-এর কাজের দায়িত্ব পান তিনি। সর্বেশের ভাই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “গত কয়েকদিন ধরেই মনমরা দেখাচ্ছিল দাদাকে। প্রবল কাজের চাপের কথাও বলতেন তিনি। এরইমাঝে শনিবার রাতে কিংবা শুক্রবার খুব ভোরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পুলিশে খবর দিই।” পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মৃতদেহের পকেট থেকে ৩ পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে।
সেই সুইসাইড নোটে সর্বেশ লিখেছেন, ‘রাত-দিন কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও এসআইআরের টার্গেট পূরণ হচ্ছে না। অত্যন্ত দুশ্চিন্তা নিয়ে রাত কাটছে। মাত্র ২-৩ ঘণ্টা ঘুমনোর সময় পাচ্ছি। বাড়িতে ৪ মেয়ে। যাদের মধ্যে দুজন অসুস্থ। আমি বেঁচে থাকতে চাই কিন্তু উপায় নেই। একটা দমবন্ধকর পরিস্থিতি। সর্বক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকতে হচ্ছে। আমার ৪ মেয়ের যত্ন নিও। হাতে সময় বেশি থাকলে হয়ত এই কাজ শেষ করতে পারতাম, কিন্তু যে সময় দেওয়া হয়েছে তা আমার জন্য পর্যাপ্ত নয়। কারণ আমি এই প্রথমবার বিএলও হয়েছি।’
সর্বেশের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিএলও-দের প্রবল কাজের চাপ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা। এই নিয়ে শুধু উত্তরপ্রদেশে এসআইআরের কাজের চাপে ৭ জন বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ৩ জন আত্মঘাতী হলেন।