• সম্মিলিত মাথার দাম ৬৫ লক্ষ টাকা! লাল সন্ত্রাস পিছনে ফেলে আত্মসমর্পণ আরও ৩৭ মাওবাদীর
    প্রতিদিন | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অস্ত্র দূরে সরিয়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরছেন মাওবাদীরা। রবিবার ফের সেই ছবি দেখা গেল ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায়। পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর কর্তাদের উপস্থিতিতে এদিন আত্মসমর্পণ করলেন ১২ জন মহিলা-সহ ৩৭ জন মাওবাদী। যার মধ্যে ২৭ জন মাওবাদীর মিলিত মাথার দাম ৬৫ লক্ষ টাকা।

    রবিবার দান্তেওয়াড়ার পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট গৌরব রাই জানান, যে মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ করেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনিতা মাণ্ডবী ওরফে কুমালি, লক্ষ্মী মড়কম ওরফে গীতা, সোমা মাণ্ডবী ওরফে রঞ্জন এবং জাহাজ কালমু। এদের প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা করে। যারা আত্মসমর্পণ করলেন তাঁদের প্রত্যেককে পুনর্বাসন ও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। মাও-মুক্ত ভারতের লক্ষ্যে গত মার্চে ‘নকশাল আত্মসমর্পণ এবং আক্রান্তদের পুনর্বাসন নীতি ২০২৫’ ঘোষণা করেছিলেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। যে প্রকল্পে মাওবাদীদের পুনর্বাসন, চাকরি, আর্থিক সহায়তা, আইনি সুরক্ষা দেওয়ার মতো একাধিক বিষয় উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বস্তার পুলিশ রেঞ্জের ‘পুনা মারঘাম’ প্রকল্প।

    লাগাতার পুলিশি অভিযানে একের কোণঠাসা মাওবাদীরা। এই অবস্থায় তাঁদের মূল স্রোতে ফেরাতে এইসব কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সরকারি হিসেবে গত ২০ মাসে শুধু দন্তেওয়াড়া জেলায় ৫০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। এছাড়া গত ২৩ মাসে গোটা ছত্তিশগড়ে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীর সংখ্যা ২২০০-র বেশি। এই তালিকায় রয়েছেন একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতা।

    উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদকে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই লক্ষ্যে জোরকদমে শুরু হয়েছে কাজ। গত কয়েক মাসে ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র-সহ একাধিক রাজ্যে আত্মসমর্পণ করেন কয়েকশো মাওবাদী। স্পষ্ট ভাষায় শাহ জানিয়েছেন, “যারা হিংসাত্যাগ করে মূল স্রোতে ফিরছেন তাঁদের স্বাগত জানাই। কিন্তু যারা এখনও বন্দুক চালিয়ে যাবে তাঁদের নিরাপত্তা বাহিনীর মারণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)