শুধু ভোগ নয়, দিঘা ঘুরতে গিয়ে এবার তিনবেলা খাবার পাবেন জগন্নাথ মন্দির থেকেই
প্রতিদিন | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: জগন্নাথ মন্দির তৈরির পর থেকেই ভক্তদের ঢল উপচে পড়েছে সৈকত শহরের তীর্থক্ষেত্রে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয়তা ও আয় বেড়েছে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের। উত্তরোত্তর সেই ভক্তসমাগম বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে, তাঁদের সুবিধার্থে নতুন পরিষেবা চালু করতে চলেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। শুধু ভোগ নয়, এবার অর্ডার করলে প্রাতঃরাশ থেকে নৈশভোজ ? সবই আপনি পেয়ে যাবেন মন্দির কর্তৃপক্ষের। খরচও নামমাত্র।
দিঘা বেড়াতে গিয়ে আর সময়মতো খাওয়াদাওয়া নিয়ে চিন্তা নেই। প্রাতঃরাশ, মধ্যাহ্নভোজ, নৈশভোজ ? হোটেলে বসে অর্ডার করলেই তিনবেলার খাবারই আপনাকে পৌঁছে দেবে জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। মেনুও রকমারি। চাইলে সকালে জলখাবারে লুচি-সবজি অথবা খিচুড়ি অর্ডার করতে পারেন। এক প্লেট লুচি-সবজির দাম পড়বে মাত্র ৫০ টাকা। আর খিচুড়ি পাবেন ১০০ টাকা প্রতি প্যাকেজে। শর্ত একটাই, মন্দির থেকে প্রাতঃরাশ নিতে হলে আগেরদিন রাত ৯টার মধ্যে অর্ডার দিতে হবে।
মধ্যাহ্নভোজে রয়েছে দু’ধরনের প্যাকেজ ? সাধারণ ও স্পেশাল। সাধারণ প্যাকেজে থাকবে অন্ন ভোগ-সহ পাঁচ রকমের পদ। ডাল, সবজি, ভাজা, মিষ্টি থেকে নানান ধরনের পদ মিলবে। খরচ মাত্র ১০০ টাকা। আর স্পেশাল প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে অন্ন ভোগ-সহ আট রকমের পদ। রয়েছে ঘি পরোটা, পনিরও। এই স্পেশাল প্যাকেজ পাওয়া যাবে ১৫০ টাকায়। নৈশভোজেও দুপুরের মতই দু’ধরনের প্যাকেজ রয়েছে। সাধারণ প্যাকেজে অন্নভোগ-সহ পাঁচ রকমের পদ। আর স্পেশাল প্যাকেজে অন্ন ভোগ-সহ আট রকমের পদ। এরপর রয়েছে জগন্নাথের মহাপ্রসাদের অংশ। যেদিন জগন্নাথদেবকে যা ভোগ দেওয়া হবে, তার অংশবিশেষ মহাপ্রসাদ হিসেবে ভক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ফলে প্রতিদিন ভিন্ন রকম প্রস্তুতি থাকায় ভক্তরা নতুন স্বাদের অভিজ্ঞতা পাবেন।
শুধু তাই নয়, মিষ্টির প্যাকেজও রয়েছে। মিষ্টির প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে গজা, প্যাড়া, খাজা, লাড্ডু। দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা। সারাদিন যে কোনও সময়ে আপনি এই মিষ্টির প্যাকেজ অর্ডার করতে পারেন। চাইলে মন্দিরে এসেও মহাপ্রসাদ কিনে নিতে পারেন। এখানে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে হোটেলে বসে অর্ডার করলে প্রতি প্যাকেজে ১০ টাকা করে ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে।
দিঘায় এখন সাধ্যের মধ্যে হোটেল পাওয়া গেলেও খাওয়াদাওয়ার আকাশছোঁয়া দাম। পর্যটকদের মতে, দিঘায় হোটেল ভাড়াতে যা খরচ না হয়, তার থেকে বেশি খরচ হয় তিনবেলা খাওয়ার জন্য।” ফলে এখন অনেক পর্যটকই দিঘায় এলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাবারের দায়িত্ব তুলে দিচ্ছেন জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষের উপর। এতে খরচও অনেকটাই কমছে।