স্টাফ রিপোর্টার: শনিবারই বদলে গিয়েছে বাংলার রাজভবনের নাম। নতুন নাম দেওয়া হয়েছে লোক ভবন। তা নিয়েই এবার দানা বাঁধল বিতর্ক। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের অনুমতি ছাড়াই রাজভবনের নাম বদলে লোক ভবন করা হয়েছে।
শনিবার বাংলার রাজভবনের নাম বদলে করা হয়েছে লোক ভবন। বদলে ফেলা হয়েছে নামের ফলক। ঘটনা হল, বোস এই কাজের জন্য রাজ্য সরকারের অনুমতির তোয়াক্কা করেননি। দীর্ঘদিন ধরেই রাজভবন থেকে সমান্তরাল শাসন চালানোর অভিযোগ উঠছে বাংলার রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে। এর আগের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় রাজ্য সরকারের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন পদক্ষেপ করতেন। সি ভি আনন্দ বোস এই পদে আসার পর সেই রাস্তাতেই হেঁটেছেন। শনিবার রাজভবনে নামবদল নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র ও দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “রাজভবন হল লোকভবন। ২০২৬-এর ভোটের কথা মাথায় রেখেই কি তবে বাংলা দিয়ে শুরু হল। রাজভবন লোকভবন করার বিজ্ঞপ্তি তো ছিল সারা দেশের জন্য। তাহলে বাংলাতেই কেন প্রথম। তার মানে কি রাজ্যপাল সমান্তরাল প্রশাসন চাইছেন?”
রাজ্যপালের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এদিন বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ‘২০২৩ সালের ২৭ মার্চ মাননীয়া রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু, মাননীয় রাজ্যপাল ড. সি. ভি. আনন্দ বোসের অনুরোধে, তৎকালীন রাজভবনের প্রতীকী চাবি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তেই সূচনা হয় মানুষের রাজভবন রাজভবন-এর একটি নতুন অধ্যায়। জন রাজভবন-এর ধারণার পিছনে ছিল মানুষকে রাজভবনের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা-মানুষের আশা-স্বপ্ন, সমস্যাবলি ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে ভবনটিকে জীবন্ত করে তোলা। এর মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা ভয়ের প্রতীক না থেকে সকলের জন্য উন্মুক্ত ও মানবিক হোক-এই ছিল মূল উদ্দেশ্য। গত তিন বছরে জন রাজ ভবন মানুষের জন্য বহু সৃজনশীল এবং কল্যাণমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। এর অন্যতম ভিত্তি ছিল-মানুষের প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’
উল্লেখ্য, রাজভবনের নাম পরিবর্তন করার নির্দেশ কয়েকদিন আগেই এসেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে। ২৫ নভেম্বর নির্দেশ আসার পর শনিবার বাংলায় তা কার্যকর করা হল। রাজ্যপালের দপ্তর সূত্রে দাবি, পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম রাজভবনের নাম পরিবর্তন করা হল।