• ‘অনেক প্রতিভাবান ভারতীয়ের অবদানে…’, কামাথের পডকাস্টে ‘A to X’ বলেন মাস্ক
    এই সময় | ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • কলারহীন পিচকালো ফুল স্লিভ টি শার্ট। ব্ল্যাক প্যান্ট। সোফায় এলিয়ে বসলেন বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের। উল্টোদিকে খাতা-পেন নিয়ে রেডি নিখিল কামাথ। ‘কফি’ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত। ১ ঘণ্টা ৫৪ মিনিটের পডকাস্টে আমেরিকার H-1B ভিসানীতি, ভারতের উদ্যোগপতিদের ভবিষ্যৎ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি, ইলন মাস্ককে নিঙড়ে নিলেন কামাথ। গোটা আলোচনাপর্বে ‘X’ ফ্যাক্টর কী কী? দেখে নেওয়া যাক একনজরে।

    দ্বিতীয় ইনিংসের শুরু থেকেই আমেরিকায় বসবাসকারী ‘বিদেশি’দের নিয়ে খড়্গহস্ত হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাস্ক-ট্রাম্পের ব্রোম্যান্সের মাঝে পাঁচিল তুলেছিল নয়া ভিসা নীতি। স্বাভাবিক ভাবেই, কামাথের পডকাস্টে অগ্রাধিকার পেয়েছে সেই প্রসঙ্গ। দাঁড়িপাল্লা ধরে পূর্ববর্তী বাইডেন প্রশাসন ও বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত পার্থক্যের ব্যালেন্স করেছেন মাস্ক।

    ট্রাম্প প্রশাসনের DOGE বিভাগের প্রধান মাস্ক বলেন, ‘যদি আপনার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তবে আপনি কোনও দেশ নন। সুতরাং, বাইডেনের অধীনে আপনার প্রচুর পরিমাণে অবৈধ অভিবাসন ছিল। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।’ তা হলে প্রতিভাবান বিদেশিদের কাজের সুযোগ কমবে আমেরিকায়? মাস্কের বক্তব্য, ‘আমি মনে করি, H-1B প্রোগ্রামের কিছু অপব্যবহার হয়েছে। কিছু আউটসোর্সিং কোম্পানি H-1B ভিসানীতি নিয়ে খেলা করেছেন। সিস্টেমকে নিয়ে এই খেলাটা বন্ধ করা দরকার।’ আমেরিকায় কাজ করতে আগ্রহী ভারতীয় নাগরিকদের উদ্দেশে মাস্কের বার্তা, ‘ইনপুটের চেয়ে আউটপুটকে বেশি মূল্যবান করে তোলার দিকে মনোনিবেশ করুন।’

    কিছু আমেরিকানের ধারণা যে অন্য দেশের লোকেরা তাঁদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছেন। এমনটা কি সত্যি? মোটেও তা মানছেন যান মাস্ক। তাঁর কথায়, ‘প্রতিভাবান লোকের অভাব সবসময়ই থাকে। আমি মনে করি, কঠিক কাজগুলি করার জন্যে পর্যাপ্ত প্রতিভাবান লোক খুঁজে পেতে আমাদের সমস্যা হয়। তাই আরও প্রতিভাবান লোক প্রয়োজন।… অনেক প্রতিভাবান ভারতীয়ের অবদানে আমেরিকা লাভবান হয়েছে।’

    ‘WTF is’ পডকাস্টে কামাথ জানার চেষ্টা করেন বিশ্বের অন্যতম ধোনি মানুষের পরিবার, বাড়ি অন্দরমহলের কথাও। ‘ক্যাপাচিনো’তে চুমুক দিতে দিতে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের নানা অজানা কথাও প্রকাশ্যে আনেন মাস্ক।

    কামাথকে মাস্ক জানান, তাঁর স্ত্রী শিভন জিলিস অর্ধেক ভারতীয়। এমনকী তাঁর এক ছেলের মিডল নাম ‘শেখর’। ভারতীয়-আমেরিকান নোবেল জয়ী পদার্থবিদ সুব্রহ্মণ্যম চন্দ্রশেখরের নাম থেকেই ছেলের নামের সঙ্গে জুড়েছেন ‘শেখর’ শব্দটি। উল্লেখ্য, জিলিস ২০১৭ সালে মাস্কের AI কোম্পানি ‘Neuralink’-এ যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি ওই কোম্পানির অপারেশনস এবং স্পেশাল প্রজেক্টের হেড। জিলিস ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি এবং দর্শনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। মাস্ক ও জিলিসের চার সন্তান রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)