সামাজিক, রাজনৈতিক-সহ বিভিন্ন পরিসরে নানা কথার ভিড়ে সত্য আর অসত্য কোনটা, তা নিয়ে তরজার স্বর বর্তমানে চড়া। এই আবহে, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বর্তমানে সত্য ও অসত্যের সীমারেখা ক্রমে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী। এর সঙ্গেই তিনি তুলে ধরেছেন ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র বিপদের কথাও।
শহরে এক শিল্পোৎসবে ‘আ রিফ্লেকশন অন দ্য ডিলিউশনস অব অথরশিপ’ শীর্ষক বক্তৃতায় গোপালকৃষ্ণ বলেছেন, “সত্যের প্রতিফলনই হল প্রকৃত সৃষ্টির একমাত্র মূল্য। সত্য কী, তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। কারণ মিথ্যাটা কী, আমরা সেটা জানি। আজ সত্য ও অসত্যের সীমারেখা ঝাপসা হয়ে গিয়েছে।” এই সূত্র ধরেই ‘মুণ্ডকোপনিষৎ’-এর থেকে গ্রহণ করা দেশের নীতিবাক্যের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। বলেছেন, “আমাদের মন্ত্র ‘সত্যমেব জয়তে’। এর দ্বিতীয় অংশটিও মনে রাখা জরুরি— ‘নানৃতং সত্যেন পন্থা...।” অর্থাৎ, সত্যবান সকলকে জয় করে, অসত্য কখনও তা পারে না। এই সূত্র ধরেই বর্তমান সময়ে সৃষ্টির ক্ষেত্রে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’কে অন্যতম বড় বিপদ বলেও মন্তব্য করেছেন গোপালকৃষ্ণ। তাঁর মতে, “সত্যিকারের সৃষ্টিকে আজ কৃত্রিমতার ছায়া গ্রাস করছে। এই আবহে ‘সত্যকে রক্ষা’ করাটাই সাহিত্য-সহ সব ধরনের সৃষ্টির প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।”
পাশাপাশি, বক্তৃতার মূল বিষয়ের সাপেক্ষে লেখালিখি-সহ সৃষ্টির সঙ্গে স্রষ্টার কী ‘সম্পর্ক’, তা-ও ব্যাখ্যা করেছেন গোপালকৃষ্ণ। এই সূত্রে ‘রামায়ণ’, ‘মহাভারত’, মার্কাস অরেলিয়াসের ‘মেডিটেশনস’-সহ বিভিন্ন নিদর্শনকে অবলম্বন করে চার ধাপে তাঁর মতামত ব্যাখ্যা করেছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল।