শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: পথ ভুলে বিপথে যেতেই সাক্ষাৎ মৃত্যুফাঁদ! এবার রং রুটের বলি বন্যপ্রাণ। দিক ভুল করায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই হাতির। রবিবার ভোররাতে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির খলাই গ্রামের ৭৩/৭ নম্বর রেল পিলারের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ট্রেনের ধাক্কায় প্রথমে মৃত্যু হয় একটি হাতির। পরে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা আরও একটি হাতিও প্রাণ হারায়। অসম থেকে জলপাইগুড়ি রুটের কোনও মালগাড়ির ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা বলে অনুমান। এই হাতিমৃত্যুর দায় কার? এনিয়ে সাময়িক তরজায় জড়িয়েছিল রেল ও বনদপ্তর। রেলের দাবি, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি হাতি করিডর নয়। তাই রেলগাড়ি গতি কমায়নি। তা অবশ্য মেনেও নিয়েছে বনদপ্তর। জানিয়েছে, হাতি দুটি ভুল পথে ঢুকে যাওয়ার ফলেই মৃত্যু হয়েছে।
বনদপ্তর জানিয়েছে, মালজুরিয়া গ্রুপের সদস্য ওই দলে পাঁচটি হাতি ছিল। দুর্ঘটনার পরে দলগাঁও, মরাঘাট ও জলদাপাড়ার জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাকি তিনটি হাতি। রবিবার ভোর চারটে নাগাদ তীব্র আর্ত চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় খলাই গ্রাম রেল লাইন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের। ছুটে গিয়ে যে দৃশ্য তাঁরা দেখতে পান, তাতে চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি অনেকেই। দেখেন, রেললাইনের ধারে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে একটি হাতি। কিছু দূরে আহত অবস্থায় চিৎকার করছে আরও একটি হাতি। খবর পেয়ে ছুটে যায় পুলিশ, রেল এবং বন বিভাগের কর্মীরা। হাতি কীভাবে ওই এলাকায় ঢুকল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন অনেকেই।
জানা গিয়েছে, দু’দিন আগে জলদাপাড়ার জঙ্গল থেকে মালজুরিয়া দলের পাঁচটি হাতি কোচবিহারের জামলদহ হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি চলে যায়। বিএসএফ এবং বনকর্মীদের তৎপরতায় সীমান্তের ওপারে যেতে পারেনি হাতির দলটি। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে জানান, রাতের দিকে দলটি পুনরায় জলপাড়ার জঙ্গলের পথ ধরেছিল। আচমকা কীভাবে তারা রুট বদল করে ভুল পথে ঢুকে পড়ল, ভেবে পাচ্ছেন না তাঁরা। যে রুট দিয়ে হাতি চলাচল করে, সেই রুটে রেল ও বনদপ্তরের যৌথ নজরদারি থাকে। রেলের গতিও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা’ বলে মনে করছে দু’পক্ষ।
মনে করা হচ্ছে, জলদাপাড়ার জঙ্গলে যাওয়ার পথে আচমকাই রুট বদল করে। রেললাইন টপকে মরাঘাটের জঙ্গলকে গন্তব্য হিসেবে ভেবেছিল হাতির দলটি। আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের রেলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শুভেন্দু রায় জানান, এটি হাতিদের চলাচলের রুট নয়। বনদপ্তরের তরফেও তাদের আগাম সতর্ক করা হয়নি। আশপাশে হাতি রয়েছে জানলে সেইমতো পদক্ষেপ করতেন তাঁরা। জলপাইগুড়ি বন বিভাগের বনাধিকারিক বিকাশ ভি-র বক্তব্য, হাতির দলটি কোচবিহার ডিভিশনের এলাকায় ছিল। আচমকা জলপাইগুড়ি ডিভিশনে চলে আসে। রেললাইন পারাপারের সময়েই এই দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থলেই একটি হাতির মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় থাকা দ্বিতীয় হাতিটিকে চিকিৎসার জন্য মরাঘাটে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়। বাকি তিনটি হাতি তিনদিকের জঙ্গলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তাদের উপর নজর রাখা হচ্ছে।