অর্ণব আইচ: বাইপাসে গাড়িতে তুলে তরুণীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় নয়া মোড়। পুলিশের দাবি, এর পিছনে রয়েছে বড়সড় প্রতারণা চক্র। ধৃত আলতাফ নির্যাতিতা ওই তরুণীর কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা হাতায়। পুলিশের কাছে তিনি যাতে না যায়, সে কারণে ভয় দেখিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই তরুণীকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনার পরেই গার্ডেনরিচ থানা এলাকার বাত্তিকল ফার্স্ট লেনের বাড়ি থেকে আলতাফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে পুরো ঘটনায় আলতাফের এক সঙ্গীও জড়িত। আছেন গাড়ির চালকও। পুরো ঘটনায় দুজনের ভূমিকাও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। খোঁজ চলছে দুজনের।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে ইএম বাইপাসে। অভিযোগ, আলতাফ এবং তাঁর সঙ্গীরা ওই তরুণীকে একটি গাড়িতে তোলে। শুধু তাই নয়, মাদক মেশানো পানীয় জোর করে খাওয়ানো হয়। এরপর কিছুটা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে চলন্ত গাড়িতেই ওই তরুণীর শ্লীলতাহানি করা হয়। এমনকী শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পরেই স্থানীয় প্রগতি ময়দান থানায় লিখিত অভিযোগ জানান ওই তরুণী। কিন্তু কেন এই ঘটনা? ধৃত আলতাফকে জেরা করে পুলিশ আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, আলতাফের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয় গত তিনমাস আগে। এক বন্ধুর মাধ্যমে দুজনের আলাপ হয়। সেই সময় ওই তরুণীর বেশ কয়েকলাখ টাকা লোকের প্রয়োজন ছিল। আর তা জানতে পারে আলতাফ। নিজেকে একটি বড় সংস্থার লোন এজেন্ট বলে পরিচয় দেয় সে। ফলে অনেক কম সুদে লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন আলতাফ ওই তরুণীকে দেখায়। এজন্য কিছু আগাম টাকা দাবি করে অভিযুক্ত।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রসেসিং ফি হিসাবে সেই টাকা দেওয়ার কথা জানায়। এতে তরুণী রাজি হয়ে কয়েক দফায় প্রায় লাখ খানেক টাকা আলতাফকে দেন। কিন্তু বহুদিন কেটে যাওয়ার পর ঋণ না পাওয়ায় সন্দেহ হয় ওই তরুণীর। তিনি ঋণের টাকা চাইতে গেলে হুমকির মুখে পড়েন। আগাম টাকা ফেরত চান ওই তরুণী। কিন্তু আলতাফ ওই টাকাও না দেওয়ায় তরুণী তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করবেন। যা শুনে কিছুটা ভয় পেয়ে যান ধৃত আলতাফ। এরপরেই ভয় দেখাতেই পুরো পরিকল্পনা বলে দাবি পুলিশের।
জানা যায়, সম্প্রতি ওই তরুণীকে ফোন করে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় অভিযুক্ত। কিন্তু তরুণী হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে জানান, তিনি পুলিশের কাছেই যাচ্ছেন। শুক্রবার আলতাফ তাঁকে ফোন করে বলে, সে টাকার একটি অংশ তাঁকে ফেরত দেবে ও এই ব্যাপারে আলোচনা করবে। সেই মতো তরুণীকে ইএমবাইপাসে অপেক্ষা করতে বলে। আলতাফ গাড়ি করে এসে তরুণীকে গাড়িতে তোলে। এর পর গাড়ির মধ্যেই প্রথমে তাঁকে হুমকি, তার পর মাদকাচ্ছন্ন করে চলন্ত গাড়ির মধ্যেই ওই তরুণীকে মারধর, নির্যাতন ও শেষ পর্যন্ত শ্লীলতাহানি করে। ময়দান এলাকায় তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয় তাঁরা। তরুণীকে অপহরণ করে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আলতাফকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এদিন আলিপুর আদালতে তোলা হলে তাকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতকে জেরা করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।