• খাকি পোশাকে যাদবপুর ‘পাহারা’য় এক্স আর্মি
    বর্তমান | ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। পড়ুয়াদের কথায় সিসি ক্যামেরা না থাকা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রক্ষীর অভাবের মতো নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এই আবহে মঙ্গলবার থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পাহারা’য় দেখা গেল খাকি পোশাকের নিরাপত্তা রক্ষীদের! উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তাঁরা সকলেই প্রাক্তন সেনা। রাজ্য সৈনিক বোর্ডের সদস্য। কর্মরত নিরাপত্তারক্ষীরা এমনটাই জানিয়েছেন। এদিনই যাদবপুরে বহু প্রতীক্ষিত আইসিসি নির্বাচন সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত ভোটকেন্দ্রের বাইরেও এই এক্স আর্মিদের দেখা গিয়েছে। এদিনই বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে একজন অস্থায়ী রেজিস্ট্রার। যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে দিনটি ছিল ঘটনাবহুল।

    মঙ্গলবার সকাল থেকে যাদবপুরের ক্যাম্পাসে ৩০ জন এক্স আর্মি, সঙ্গে দু’জন সুপারভাইজার রুট মার্চ করেন। জানা গিয়েছে, তাঁরা তিনটি শিফটে ১০ জন করে কাজ করবেন। তাঁদের সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরাও থাকবেন। আদালতের নির্দেশেই এই ব্যবস্থা বলে খবর। এদিন দেখা গেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গেটের বাইরে দু’জন করে রক্ষী রয়েছেন। এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর কথায়, ‘সন্দেহজনক কাউকে দেখলে আমরা আটকাচ্ছি। এখানকার নিরাপত্তা রক্ষীদের মুখ চেনা অনেকেই। ওঁরা সাহায্য করছেন।’ নয়া এই নিরাপত্তা বলয় নিয়ে প্রাথমিকভাবে পড়ুয়াদের মধ্যে কোনও তাপ-উত্তাপ দেখা যাচ্ছে না। অনেকে বলছেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে তো ভালোই।’ আবার অনেকে বলছেন, ‘নিরাপত্তা থাকুক। নজরদারি যেন না চলে।’ 

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই নেতা শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘স্থায়ী নিরাপত্তা রক্ষী, খেলার মাঠ, ঝিল পাড়ে ফেন্সিং, রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর দাবি আমরা করেছি। সিসি ক্যামেরা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু তা দিয়ে বড়জোর অপরাধীকে শনাক্ত করা যায়। আটকানো যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক নিরাপত্তা রক্ষীর পদ খালি আছে। সেগুলো পূরণ করা হোক। শিক্ষিত সিকিউরিটি গার্ড প্রয়োজন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু হলে আমাদের আপত্তি আছে।’ যাদবপুরের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ‘আমরা আশা করব, তাঁরা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আর শক্তপোক্ত করবেন। পাশাপাশি, আমরা আমাদের পূর্বনির্ধারিত দাবি অনুযায়ী পুলিশ পোস্টিংয়ের দাবিতেও অনড় রয়েছি।’

    এদিনই যাদবপুরে অস্থায়ী রেজিস্ট্রার পদে দায়িত্ব নিয়েছেন সেলিম বক্স মণ্ডল। তিনি তৃণমূলপন্থী অধ্যাপক সংগঠনের প্রাক্তন সহ সভাপতি। তাঁর এই পদপ্রাপ্তির পরেই কার্যকরী সমিতির সদস্য তথা তৃণমূলপন্থী অধ্যাপক মনোজিত্ মণ্ডল সহ অন্যান্য অধ্যাপক তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে উপাচার্যকে চিঠি দেন। সেই চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডাকার আর্জি জানিয়েছেন কার্যকরী সমিতির সদস্যরা। ছাত্র সংগঠন আরএসএফ-কে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। সূত্রের খবর, চিঠির প্রেক্ষিতে উপাচার্য তাদের জানিয়েছেন, কেউই দেশের আইনের আওতার বাইরে নয়। 
  • Link to this news (বর্তমান)