নিয়মের গেরো! ২৫ হাজার পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন বকেয়া কলকাতায়
বর্তমান | ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫
সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: ২৫ হাজারের বেশি পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন বকেয়া রয়েছে কলকাতায়। সম্প্রতি লালবাজারে এক ঘরোয়া বৈঠকে এই তথ্য তুলে ধরেন কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষকর্তা। ফলে যাঁরা জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট পেতে চাইছেন, তাঁদের রীতিমতো বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। কলকাতার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা এসএসডি বা যাদবপুর ডিভিশনের।
একটা সময় ছিল, যখন আবেদনের দিন সাতেকের মধ্যে হাতে চলে আসত পাসপোর্ট। বছর দেড়েক আগে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকে আমূল বদলে গিয়েছে ছবিটা। এখন পাসপোর্ট হাতে পেতে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। কারণ, পাশের দেশে পালাবদলের পর থেকে কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে নতুন পাসপোর্টের পাশাপাশি পুরোনো পাসপোর্ট নবীকরণের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি বেড়েছে কয়েক গুন। বেনোজল ঠেকাতে গিয়ে নিয়মের কড়াকড়ি যত বাড়ছে, তত দেরি হচ্ছে পাসপোর্ট হাতে পেতে। এখান থেকেই অনেকে ফের গিয়ে ভিড়ছেন দালালদের কাছে।
ভুক্তভোগী জনতার প্রশ্ন, পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য কেন এত সময় লাগছে? কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, বিদেশ মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুসারে, ১৯৮৯ সালের ৬ জানুয়ারি বা তার পর কারও জন্ম হলে পাসপোর্টের আবেদনের জন্য বার্থ সার্টফিকেট বাধ্যতামূলক। যে পুরসভা বা পঞ্চায়েত বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে, পুলিশের এনকোয়ারি অফিসার সেই সংস্থার কাছে সেটি আসল না নকল, যাচাই করতে পাঠাচ্ছেন। এই রিপোর্ট পেতেই ৭ থেকে ১০ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। একইভাবে ভোটার কার্ড বা এপিকের সত্যতা যাচাই করতে সেটি সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও-কে পাঠাচ্ছে পুলিশ। সেই রিপোর্ট পেতে দিন দশেক সময় লাগছে। আধার কার্ড, স্কুলের সার্টিফিকেটের সত্যতাও যাচাই করা হচ্ছে একইভাবে। সব ঠিক থাকলে পাসপোর্টের আবেদনকারীর বিরুদ্ধে অতীতে অপরাধ সংক্রান্ত কোনও রেকর্ড আছে কি না, খতিয়ে দেখা হয়। যদি দেখা যায়, কোনও আবেদনকারী বাইরের রাজ্যে থাকেন, সেক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে সেই জায়গার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদনকারীর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না, জানতে হয়। এতগুলি নিয়ম মেনে চলার পর পাসপোর্ট হাতে পেতে আবেদনকারীদের গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ দিন লেগে যাচ্ছে।
কেন এত কড়াকড়ি? কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগ নিয়ে জেল থেকে পালানো জঙ্গিদের একটা অংশ কলকাতা হয়ে জাল নথির সাহায্যে পাসপোর্ট হাতিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে। কয়েকজনের হদিশই নেই। তাই কড়াকড়ি করতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। সমস্যার সমাধান নিয়ে বৈঠকে পুলিশের ওই শীর্ষকর্তা জানান, পাসপোর্টের জন্য প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ আবেদন জমা পড়ে লালবাজারে। একজন পুলিশ অফিসার প্রতিদিন তিন থেকে চারটি এনকোয়ারি করে থাকেন। এই সংখ্যাটা বাড়িয়ে যদি ১০ থেকে ১২ করা যায়, তাহলে এত পুলিশ ভেরিফিকেশন বকেয়া থাকবে না।