• ডান্স ফ্লোরের ‘ফায়ার গান’ থেকেই আগুন নাইটক্লাবে, অনুমান তদন্তে
    বর্তমান | ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মারগাও: মাত্র ঘণ্টাখানেকের আগুন। তাতেই পুড়ে ছাই গোয়ার ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নাইট ক্লাব। শনিবার রাতের এই ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে ২৫ জনের। যাঁদের বেশিরভাগই সেখানে কাজ করতেন। রবিবার সকালেও আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি নাইট ক্লাবের বেঁচে যাওয়া কর্মীরা। এদিকে, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে ডান্স ফ্লোরে ফায়ার গান চালানো হয়েছিল। সেই ফুলকি থেকেই প্রথমে আগুন লাগে। চারদিকে তালপাতা সহ দাহ্য পদার্থ থাকায় দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও দাবি করেছেন, নাচ চলাকালীন বাজি ফাটানো হচ্ছিল। ক্লাবে ঢোকা ও বেরনোর করিডরও ছিল অত্যন্ত সরু। তাই আগুন লাগলেও দ্রুত মানুষ সেখান থেকে বের হতে পারেননি।

    ক্লাবের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন রবি। এদিন তিনি বলছিলেন, ‘গতকাল রাতেও ডিউটিতে ছিলাম। হঠাত্ বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ভিতরে ছুটে যাই। দেখি, দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। অতিথিদের বাইরে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সবাইকে পারলাম না। ক্লাবের কর্মীরাই তো বেশি প্রাণ হারিয়েছেন।’ একটু থেমে তাঁর সংযোজন, ‘মৃতদের মধ্যে আমার বন্ধুও ছিল। ওই আমাকে এখানে কাজে এনেছিল।’

    এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ‘মাস দু’য়েক আগেও রাতে জোরে গান বাজানো হচ্ছিল ওই ক্লাবে। তখন অভিযোগ জানানোর পর কিছুদিন বন্ধ ছিল। তারপর ফের শুরু হয় রাতভর উচ্চস্বরে গান-বাজনা।’ নাইট ক্লাবের ড্রাইভার দেব বিহারের বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘দুপুরে ডমিনিক নামের এক বয়স্ক ভদ্রলোককে আমি গাড়িতে ক্লাবে নিয়ে এসেছিলাম। রাতে গিয়ে দেখি তাঁর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে।’

    ঘটনার সময় ক্লাবে ছিলেন দিল্লির বাসিন্দা রিয়া। কোনওমতে বেরিয়ে আসেন। তিনি জানান, নাচ চলাকালীন ফায়ার গান ব্যবহার করা হচ্ছিল। তা থেকেই আগুন লেগে থাকতে পারে। হায়দরাবাদের ফতিমা শেখ জানিয়েছেন, আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই ডান্স ফ্লোর থেকে নীচের রান্নাঘরে আশ্রয় নিতে যান। তাঁরা আর বেরোতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন। আহতরা পাবেন ৫০ হাজার টাকা।
  • Link to this news (বর্তমান)