• শৈশবে খুনের হুমকি, আতঙ্কে ২০ বছর গৃহবন্দি বস্তারের কন্যা! হারিয়েছে দৃষ্টিশক্তি, মানসিক স্থিতিশীলতা
    বর্তমান | ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • বস্তার: মাত্র ছ’বছর বয়স। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাড়ারই কেউ খুনের হুমকি দিয়েছিল। কোনওক্রমে বাড়িতে ফিরে ঘরে আগল তুলে দিয়েছিল ছোট্ট মেয়েটি। তারপর থেকে আতঙ্কে আর বাড়ির বাইরে পা রাখেনি সে। শুধুমাত্র খাবার জন্য ঘরের সামনে থালা রেখে দিতেন বাবা। খাবার শেষ হলেই ফের অন্ধকূপে ডুবে যাওয়া। সেখানেই কেটেছে শৈশব-কৈশোর। ছত্তিশগড়ের বস্তারে বাকাবাঁধ গ্রামের বাসিন্দা লিসার জীবনের কুড়িটা বছর পার হয়ে গিয়েছে।  সম্প্রতি সমাজ কল্যাণ দপ্তরের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। তবে দীর্ঘ দু’দশক সূর্যের আলো না দেখায়, এখন গোটা পৃথিবীটাই তাঁর কাছে অমানিশা। এত বছরের অন্ধকার তাঁর দৃষ্টিশক্তিকে সম্পূর্ণ গ্রাস করেছে। বাইরের আলো পড়লেই চোখে তা তীরের মতো বিঁধছে। শুধু তাই নয়, বদ্ধ ঘরের একাকী পরিবেশে হারিয়েছে মানসিক ভারসাম্যও। কারও সামান্য কথাবার্তাও এখন লিসার কাছে যেন বাসনপত্র ছুড়ে ফেলার আওয়াজের মতো ঠেকছে। শব্দ পেলেই ভয়ে কান চেপে ধরছেন। এতদিন ধরে শুধু মনে আছে একটাই কথা। খুনের হুমকি। 

    সালটা ২০০০। দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী লিসাকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কেউ খুনের হুমকি দেয়। তারপর থেকে বাড়ির বাইরে বেরোতে বললেই ভয় পেত সে। এর কয়েক বছরের মধ্যেই তার মা মারা যান। আর গরিব কৃষক বাবাও মেয়ের আতঙ্ক দেখে তাকে আর বাইরে বেরোতে জোর করেননি।

    সমাজকল্যাণ দপ্তরের কর্মীরা জানাচ্ছেন, এক্ষেত্রে লিসার আতঙ্কই মূল কারণ, নাকি জোর তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মেয়েকে উদ্ধারের আর্জি জানিয়ে লিসার বাবাই প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে খবর। বয়স হওয়ায় মেয়েকে দেখভালের ক্ষমতা তাঁর নেই। এজন্যই সরকারের কাছে সাহায্যের আর্জি জানান তিনি।

    সেইমতো লিসাকে উদ্ধার করে ঘারাউন্ডা আশ্রমে পাঠানো হয়েছে। সেখানে লাগাতার তাঁর কাউন্সেলিং চলছে। মানসিক ও শারীরিক পরীক্ষাও হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লিসা হয়তো স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি কোনওভাবেই ফিরে পাবেন না। এত বছর মানুষের থেকে দূরে নির্বাক 

    হয়ে থাকার কারণে তিনি মানসিক রোগীতে পরিণত হয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্ক হলেও তাঁর আচরণ শিশুর মতো। 

    তবে দিন কয়েক আশ্রমে থাকার পর লিসার মুখে হাসি ফুটেছে। মানুষের সংস্পর্শে তিনি খুশি হচ্ছেন। যদিও পুরোপুরি তিনি সুস্থ হতে পারবেন কি না, সেটাই  চিকিৎসকদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। 

    সমাজ কল্যাণ দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর সুচিত্রা লাকরা বলেন, ‘বাকাবাঁধ ব্লকের ওই যুবতীর কথা আমরা শুনেছি। তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিরাপদেই রয়েছেন।’ ছবি: সমাজমাধ্যম
  • Link to this news (বর্তমান)