• ঘরের কাজ সেরেই খেজুর গাছে উঠে রস সংগ্রহ করেন জয়নগরের গৃহবধূ মাজিদা
    বর্তমান | ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর: জয়নগরের মোয়ার মরশুম এসে গেল বলে। মোয়া তৈরির অন্যতম উপাদান নলেন গুড়। এখন গুড় সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে খেজুর গাছে ওঠেন জয়নগরের মাজিদা লস্কর। এই গৃহবধূ কাঁধে গামছা, পিঠে চট নিয়ে দা কোমরে বেঁধে উঠছেন গাছে। প্রায় ৪০টির মত গাছে হাঁড়ি বাঁধছেন। তাঁর স্বামী আব্দুর রউফ লস্কর। তাঁর কাছে লম্বা খেজুর গাছে চড়ার হাতেখড়ি মাজিদার। অনেকে বলছেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রথম মহিলা শিউলি হলেন মাজিদা। বর্তমানে শিউলির সংখ্যা কমে গিয়েছে। নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে চাইছেন না। মাজিদা বলেন, ‘মোয়া শিল্পকে বাঁচাতে হবে। তাই আমার মতই এগিয়ে আসতে হবে অন্য মহিলাদের।’ মাজিদা সংসার সামলে হেঁসেল ঠেলার পর যান এই কাজে।

    জয়নগর দু’নম্বর ব্লকের মণিপুর বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা মাজিদা। স্বামী আব্দুর বংশপরম্পরায় শিউলি। তাঁদের তিন ছেলে। ১৫ বছর ধরে শিউলির কাজ করছেন মাজিদা। বলেন, সংসারে অভাব রয়েছে। ছোটবেলা থেকে  নানা ধরনের গাছে ওঠা আমার স্বভাব। তারপর আমার বিয়েও হয় এক শিউলির পরিবারে। আমি আর আমার স্বামী দু’জনেই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে যাই। স্বামী আমাকে সাহায্য করেন। খেজুর গাছের কাঁটায় শরীর অনেকেবার কেটেছে। অনেকবার আঘাত পেয়েছি। তাও কাজ থেকে পিছিয়ে আসার কথা ভাবিনি। গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে নিয়ে এসে বাড়িতে গুড় তৈরি করি নিজেই। সংসার সামলে কিছু পয়সা আসে বলে এ কাজ করতে হয়। তাঁর স্বামী বলেন, আমার স্ত্রীর এই কাজের প্রতি আগ্রহ আছে। তা থেকেই এই পেশায় এসেছে। আমি নিজে ২০০টির মত খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। এই কাজে পরিশ্রম আছে। কিন্তু এখন লাভ মিলছে না। জয়নগর, বহড়ুর কয়েকটি নামী মোয়ার দোকানে আমরা নলেন গুড় সরবরাহ করি। এখন শীত তেমন আসেনি বলে রস সেভাবে মিলছে না। স্বামী-স্ত্রী কাজ করি বলে সংসারের অভাব কিছুটা মিটেছে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)