• আইনি জটিলতার জের, নাইট ক্লাব মালিকদের ভারতে প্রত্যর্পণে দেরি
    বর্তমান | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • নয়াদিল্লি: গোয়ার নাইটক্লাবে আগুন লেগে ২৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই মালিক গৌরব ও সৌরভ লুথরাকে বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ফুকেত থেকে আটক করেছিল সেদেশের পুলিশ। আটকের পর তাঁদের ফুকেতের ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার দুই ভাইকে ব্যাংককে নিয়ে আসা হয়। সিবিআই তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। গোয়া পুলিশ নয়, সিবিআই আধিকারিকরাই দু’জনকে ভারতে নিয়ে আসবে। গৌরব ও সৌরভকে আটক করার পরেই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিল থাইল্যান্ড প্রশাসন। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, দ্রুত অভিযুক্তদের গোয়ায় ফেরত আনা হবে। তবে, আইনি জটিলতার জন্য তা হচ্ছে না। দুই ভাই দেশ ছেড়ে পালাতেই, তাঁদের পাসপোর্ট বাতিল করে দিয়েছিল ভারত। তাই প্রত্যর্পণের জন্য ইমারজেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট তৈরি করছে ভারতীয় দূতাবাস। কিন্তু তার জন্য আবার দু’জনের থাইল্যান্ডের ভিসা বাতিল করার প্রয়োজন। এর জন্য সেদেশের আদালতের অনুমতির প্রয়োজন। এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ও প্রত্যর্পণের নথি তৈরি করতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে সোমবার লুথরা ভাইদের ভারতে আনা হতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে থাই প্রশাসন। 

    এদিন আরপোরা-নাগোয়া পঞ্চায়েতের প্রধান রোশন রেদকার ও সচিব রঘুবীর বাগকর আনজুনা থানায় হাজিরা দেন। ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নামে ওই অভিশপ্ত নাইট ক্লাবটি আরপোরা এলাকাতেই অবস্থিত। নাইট ক্লাবটির বিরুদ্ধে একাধিকবার অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও পঞ্চায়েতের সঙ্গে ক্লাব কর্তৃপক্ষের ‘যোগসাজশ’ থাকায় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গ্রেফতারির ভয়ে বৃহস্পতিবার রেদকার ও বাগকর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত থেকে রক্ষাকবচ মেলার পর পুলিশের জেরার মুখোমুখি হন তাঁরা।

    এদিকে, নাইট ক্লাব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একের পর এক নতুন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। গত নভেম্বরে ওই ক্লাবে চরম হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে দাবি করেছেন বৈভবী চান্ডেল নামে এক মহিলা। তিনি থানায় ক্লাব মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। পাশাপাশি যে জমিতে ক্লাবটি অবস্থিত সেটির আসল মালিক দাবি করে প্রদীপ আমোনকর নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই জমিটি আদতে ‘লবণাক্ত ভূমি’ ছিল। ২০০৪ সালে সেটিকে সরকারি নথিতে ‘বাসযোগ্য জমি’ দেখিয়ে দখল করে নেওয়া হয়। 
  • Link to this news (বর্তমান)