• কর্তব্যে গাফিলতি, ইন্ডিগোর চার কর্তাকে বরখাস্ত করল ডিজিসিএ
    বর্তমান | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে বিপর্যস্ত ইন্ডিগোর উড়ান পরিষেবা। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রীকে। উড়ান সংস্থার এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে কারা, তা এখনও পরিস্কার নয়। বিমান যাত্রীদের চরম ভোগান্তির পরও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি নরম মনোভাব দেখানোর অভিযোগ উঠেছে উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা ডিজিসিএর বিরুদ্ধে। শেষমেষ ইন্ডিগোর চারজন ফ্লাইট অপারেশন ইনসপেক্টর্স (এফওআইএস) ছাঁটাই করে নিজেদের মুখ রক্ষা করল ডিজিসিএ। তাঁদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। যে চারজন এফওআইএসকে বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁরা হলেন, ঋষিরাজ চট্টোপাধ্যায়, সীমা জামনানি, অনিল কুমার পোখরিয়াল এবং প্রিয়ম কৌশিক। 

    ইন্ডিগোর উড়ান পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়ার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডু। তিনি ইন্ডিগোর পাশাপাশি ডিজিসিএর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ইন্ডিগোর উড়ান ১০ শতাংশ কমাতে বলেছে কেন্দ্র। যাতে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরতে পারে সংস্থাটি। বিমান পরিবহণমন্ত্রীর ধমকের পর ইন্ডিগোর কাজকর্মও খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে ডিজিসিএ। কর্মীদের ডিউটি টাইম, পাইলটরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছেন কি না, যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ও মালপত্র ফেরত হচ্ছে কি না, এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবারও ডিজিসিএর চার সদস্যের প্যানেলের সামনে হাজিরা দিয়েছেন ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স। তাঁর কাছে সংস্থার উড়ান বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে উড়ান বিপর্যয়ের জন্য বড়সড় জরিমানার মুখেও পড়তে হতে পারে ইন্ডিগোকে। অন্তত ৫৮ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হতে পারে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। তবে বিগত দিনগুলির তুলনায় এদিন অনেকটাই উন্নতি হয়েছে ইন্ডিগোর উড়ান পরিষেবা। মোট ৫৪টি উড়ান বাতিলের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।  

    এদিকে বছরের বিভিন্ন সময় বিমানের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র। এদিন তার জবাবে অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডু বলেন, উৎসবের সময় চাহিদা অনুযায়ী কোনও একটি নির্দিষ্ট রুটে বিমান ভাড়া সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী থাকে। তার জন্য সারা বছরই ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা বাস্তবসম্মত নয়। চাহিদা ও জোগান অনুযায়ী বিমানের ভাড়া ওঠানামা করবে, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। মন্ত্রীর কথায়, দেশে বিমান পরিষেবা উন্নত করার প্রধান শর্তই হল নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখা। যাতে আরও বেশি বেসরকারি সংস্থা উড়ান পরিষেবা দিতে এগিয়ে আসে।
  • Link to this news (বর্তমান)