অনুরোধ নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সরাসরি আক্রমণ, সাংসদদের নির্দেশ তৃণমূলের
বর্তমান | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: অনুনয়-বিনয়ের জমানা শেষ। এবার লড়াই মাঠেই হবে। সংসদে বিজেপি সরকারের সঙ্গে আপাত এমনই আচরণ করবে বলেই ঠিক করেছে তৃণমূল। সামনেই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন। তাই সংসদকে কাজে লাগাতে হবে। এলাকার উন্নয়নের জন্য সাহায্য চাওয়া বা ব্যক্তিগত কোনও কাজে মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত নয়। তৃণমূল সাংসদদের এমনই কড়া বার্তা দিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। স্পষ্টই বলা হয়েছে, অনুরোধ নয় আক্রমণে নজর দিন। সমালোচনা করুন, সাহায্য প্রার্থনা নয়।
একইসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রশ্ন হোক বা জিরো আওয়ার, যত বেশি সম্ভব তুলে ধরতে হবে রাজ্যের প্রতি বিজেপির বঞ্চনার কথা। লাগাতার বলে যেতে হবে। যাতে বিজেপি বাংলা বিরোধী, এই বিষয়টি প্রতিস্থাপন হয়। দলের মধ্যে চলবে না কোনও মতভেদ। ধূমপান বা বেফাঁস কোনও মন্তব্য অথবা আচরণে দল অস্বস্তিতে পড়ে, এমন কিছু করা যাবে না।
আগামী সপ্তাহে বিদেশ থেকে ফিরছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর সাংসদদের সঙ্গে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বৈঠক করবেন বলেই জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা। আগামী ২-৫ জানুয়ারি হুগলির ধনেখালিতে হবে মুসলিমদের এক বিরাট সম্মেলন। ইজতেমা। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা তো বটেই, দেশের অন্যান্য জায়গা থেকেও আসবেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। তাই অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছনোর ব্যবস্থা মসৃণ করতে স্পেশাল ট্রেনের আবেদন করে রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাজদা আহমেদ, ইউসুফ পাঠান, আবু তাহেরের মতো সাংসদরা। মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে চাওয়া হয়েছিল সময়ও।
চিঠি পাওয়ার পরেই অশ্বিনী বৈষ্ণব তৃণমূলকে খবর পাঠান, দেখা করতে আসুন। কিন্তু আদৌ সাক্ষাৎ করতে যাওয়া উচিত কি? প্রশ্ন তোলেন দলের লোকসভার মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার। পারিবারিক চিকিৎসার কারণে দলনেতা অভিষেক বিদেশে। সংসদ সামাল দিচ্ছেন কাকলিদেবী এবং দলের ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায়। উভয়েই তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে জানান, না সাক্ষাৎ করতে হবে না। অন্তত ট্রেন চাওয়ার সুবিধার জন্য নয়। কারণ, সামনেই ভোট। সামান্য সুবিধা নিলেই বিজেপি সেটিকে বাড়িয়ে চড়িয়ে প্রচার করে তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। ফলে ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। সেই মতো সাক্ষাৎ কর্মসূচি বাতিল। দলের এই সিদ্ধান্তে কয়েকজন সাংসদ অসন্তুষ্ট। বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে কথা কাটাকাটিও
হয়েছে। দলের দুই চারবারের মহিলা সাংসদের
সঙ্গে প্রথমবার সাংসদ হওয়া এক যুবনেত্রীর বিবাদ বাঁধে। উভয়েই অভিষেকের কাছে বিষয়টি নালিশ করবেন বলে আলোচনা উত্তপ্ত হয়। যা দেখে হতবাক, দলের অন্য সিনিয়র সাংসদরা। সংসদে তৃণমূলের অন্দরে তাই কাটছে তাল। যা জানতে পেরে অভিষেক ক্ষুব্ধ বলেই খবর।