১ হাজার হেক্টরেরও বেশি দখল হওয়া জমি উদ্ধারে ব্যর্থ রেল, স্বীকার মন্ত্রীর
বর্তমান | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
দিব্যেন্দেু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: বাংলায় একাধিক রেল প্রকল্পের কাজ থমকে থাকার জন্য বারবার রাজ্য সরকারকেই দায়ী করে বিজেপি। এব্যাপারে কেন্দ্রের মোদি সরকারের অন্যতম প্রধান অভিযোগ, বাংলায় রেলের বিভিন্ন প্রকল্পের সার্থক বাস্তবায়নের জন্য যত জমি প্রয়োজন, তার প্রায় কিছুই অধিগ্রহণ করে দিতে পারছে না তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। আর সেই জমি জটেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে একাধিক রেল প্রকল্প। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাংলায় রেল প্রকল্প আটকে থাকার জন্য জমি জটকে দায়ী করে নিত্যদিন রাজ্য সরকারকে বিজেপি শিবির সমালোচনায় বিদ্ধ করছে ঠিকই। কিন্তু সারা দেশে জবরদখল হয়ে থাকা নিজেদের এক হাজার হেক্টরের বেশি জমি জবরদখল মুক্ত করতে পারেনি রেলমন্ত্রক। কেন্দ্রের মোদি জমানার বিগত পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ১০০ হেক্টরেরও কম রেলের জমি জবরদখল মুক্ত করতে পেরেছে মন্ত্রক। সংসদে রীতিমতো লিখিতভাবে এহেন খতিয়ান তুলে ধরেছে রেলমন্ত্রক।
জমি জবরদখল মুক্ত করা যে নিতান্ত সহজ কাজ নয়, তা সম্ভবত মন্ত্রকেরও অজানা নয়। তাই অন্য রাজ্য সরকারকে এবিষয়ে কাঠগড়ায় তোলা কতটা সমীচীন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুক্রবার রাজ্যসভায় রেলের জবরদখল হয়ে থাকা জমি প্রসঙ্গে লিখিত প্রশ্ন করেন বিজেপি সাংসদ লক্ষ্মীকান্ত বাজপেয়ি। তারই লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, সারা দেশে রেলের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৪.৯৯ লক্ষ হেক্টর। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮ হেক্টরের কিছু বেশি পরিমাণ জমি জবরদখল হয়ে রয়েছে।
লিখিত জবাবে রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ নির্দিষ্টভাবে জানতে চেয়েছিলেন, কতদিন ধরে রেলের জমি জবরদখল হয়ে রয়েছে? এই প্রশ্নের কোনও সুনির্দিষ্ট জবাব রেলমন্ত্রী দেননি। লিখিতভাবে এদিন রাজ্যসভায় তিনি শুধু জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এসব জমি জবরদখল হয়ে রয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবার রাজ্যসভায় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব লিখিতভাবেই উল্লেখ করেছেন, বিগত পাঁচ বছরে সারা দেশে মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর জমি জবরদখলকারীদের কবল থেকে মুক্ত করা গিয়েছে।