• অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রামগড় বাজারের ৭০ দোকান, লোকসান কয়েক কোটির
    বর্তমান | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুদি দোকানের সমস্ত সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। লক্ষাধিক টাকার চালের বস্তা, ফল এবং সবজি পরিণত হয়েছে ছাইয়ের স্তূপে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতের অগ্নিকাণ্ডে এখন শুধুই হাহাকার রায়পুর রামগড় বাজারে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে প্রায় ৭০টি দোকান। যদিও অন্য একটি সূত্রের দাবি, পুরোপুরি  ভস্মীভূত হয়েছে প্রায় ৪০টি দোকান। বাকিগুলি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। দমকলের আটটি ইঞ্জিন ঘণ্টা তিনেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

    এদিন গভীর রাতে আগুন লাগে যাদবপুর এলাকার এই বাজারে। দফায় দফায় ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের আটটি ইঞ্জিন। পুরোনো বাজার, অপরিসর গলি। স্বাভাবিকভাবেই দমকল কর্মীদের আগুন নেভানোর কাজে বিস্তর বেগ পেতে হয়। ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর মধ্যেই বাজারের প্রায় ৩০০ দোকানের মধ্যে কমবেশি ৭০টি দোকান পুরোপুরি বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুদি এবং ফল-সবজির দোকান। প্রত্যেকটি দোকানে কয়েক লক্ষ টাকার স্টক ছিল। সবটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। একটি মুদি দোকানের মালিক মিল্টন সরকার ও চালের দোকানের মালিক শ্যামল দে বলছিলেন, ‘মাঝরাতে খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি, দাউ দাউ করে বাজার জ্বলছে। শুনলাম, বাজারের ভিতরে একটি বাতিস্তম্ভ থেকে আগুন ছড়িয়েছে।’ খবর পেয়ে মাঝরাতেই ঘটনাস্থলে যান যাদবপুরের ওই অঞ্চলের বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার ও স্থানীয় ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। আগুন নেভানোর কাজ তদারকি করেন তাঁরা। 

    বাজারটি বেসরকারি হাতে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলার বলেন, ‘কম করে ছয় দশকের পুরনো বাজার। গোটাটাই বেসরকারি হাতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোঁজ নিয়েছেন। মেয়র ফিরহাদ হাকিম আমাকে ফোন করেছিলেন। বেসরকারি বাজার হলেও আমরা তাদের পাশে আছি। মেয়র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি দেখছেন। বাজার কমিটির সঙ্গে কথা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব-নিকাশ চলছে।’ তাঁর আরও সংযোজন, ভিতরে মাছের বাজারও ছিল। কিন্তু ফরেনসিক না হলে এখন বাজার খোলা হবে না। তাই পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে, মাছের বাজারের অংশ তো পড়েনি। যাতে মাছ ব্যবসায়ীরা তাঁদের স্টক বাইরে এনে বেচতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। আপাতত সিইএসসি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখেছে। 

    সংশ্লিষ্ট বাজার কমিটির সম্পাদক গোবিন্দ সমাদ্দার বলেন, ‘২৫টি মুদিখানার দোকান পুড়ে গিয়েছে। এক-একটি দোকানে অন্তত ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার মালপত্র মজুত ছিল। ফল এবং শাক-সবজির দোকানগুলিতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার পম্য ছিল। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কয়েক কোটি টাকার। কবে দোকান খুলতে পারব, জানি না।’ প্রাথমিকভাবে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুন লেগেছে। তবে ফরেনসিক না এলে স্পষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

     ভোররাতের দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ‘পকেট ফায়ার’ নেভানোর কাজ চালিয়েছে দমকল।  
  • Link to this news (বর্তমান)