• প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং এরোস্পেস সেক্টরে পাকিস্তানের সাইবার হানা, প্রতিহত করছে ডেটা সিকিওরিটি কন্ট্রোল
    বর্তমান | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ‘অপারেশন সিন্দুর’এ কুপোকাত পাকিস্তান ফের ষড়যন্ত্রের ঘুঁটি সাজিয়েছে। তবে এবার আর সম্মুখ সমর নয়। বরং সাইবার হানায় ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুপ্ত তথ্য হাতানোর চেষ্টার মধ্যে দিয়ে ‘প্রক্সি ওয়ার’ চালাচ্ছে পাকিস্তান। দেশের গোয়েন্দা এজেন্সি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের গোপন তথ্যভাণ্ডারে সাইবার হানা চালানো হয়েছে। বাদ নেই দেশের এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরও। এখনও পর্যন্ত ২৩ বার এহেন ‘থ্রেট’ চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘নাপাক’ সে চেষ্টা প্রতিহত করছে ভারতের সাইবার সুরক্ষা বেষ্টনী। এই পর্বে ডেটা সিকিওরিটি কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (ডিএসসিআই) র‌্যাডারে ধরা পড়েছে বেশ কিছু রিমোট আইপি অ্যাড্রেস। যার সবক’টির উৎসস্থল পাকিস্তান। চাঞ্চল্যকর এই খবর ইতিমধ্যেই ডিএসসিআইয়ের তরফে প্রতিরক্ষামন্ত্রক ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোকে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সাইবার হানায় দেশের গোপন তথ্য হাতিয়ে ২০২৬-এর ২৬ জানুয়ারি বড়সড় কোনও সন্ত্রাসের ছক কষছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তার জেরে দেশের সুরক্ষায় ব্যবহৃত সমস্ত সফটওয়্যারগুলিকে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনিতে মুড়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেখানে কোনও ম্যালওয়্যারের সন্ধান পেলেই তার খুঁটিনাটি তথ্য বের করার জন্য শীর্ষমহল থেকে নির্দেশ গিয়েছে। 

    ৬ ডিসেম্বর একটি ডিএসসিআই-এর তরফে একটি রিপোর্ট গিয়েছে আইবিতে। সূত্রের খবর, ২৫ অক্টোবর ন্যাশনাল ইনফরর্মেটিক্স সেন্টারের  ই-মেল সার্ভিসে প্রথম একটি ‘থ্রেট ম্যালওয়্যার’এর সন্ধান পান দেশের সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সুরক্ষা বেষ্টনী আটকে দেয় সেই ম্যালওয়্যার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনআইসির পোর্টালে সেই ম্যালওয়্যারে একবার প্রবেশ করলে, দেশের অনেক তথ্য সাইবার প্রতারকদের হাতে চলে যেত। আঁটোসাঁটো সুরক্ষাব্যবস্থার জেরে প্রাথমিকভাবে সেই আশঙ্কা টলানো গিয়েছে। সেই ঘটনার পরই দেশের সর্বত্র তথ্যভাণ্ডারগুলির সুরক্ষা আরও বাড়ানো হয়েছে।  

    সাইবার ফরেন্সিক ল্যাবে সেই অবাঞ্ছিত ম্যালওয়্যারের ‘ময়নাতদন্ত’ হয়েছে। জানা গিয়েছে, এধরনের ম্যালওয়্যার ‘এপিটি৩৬’ নামে পরিচিত। ডার্ক ওয়েবে বহুল চর্চিত এই ম্যালওয়্যার। এটিকে ফিসিং সফটওয়্যারও বলে। কী কাজ এই ম্যালওয়্যারের? আদতে যে কোনও ধরনের পাসওয়ার্ড এনক্রিপটেড প্রোফাইল বা অ্যাকাউন্ট হ্যাক করাই এপিটি৩৬-এর কাজ। তবে সাধারণ কোনও সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাকিং নয়। এই ম্যালওয়্যার ব্যবহৃত হয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুপ্ত তথ্যভাণ্ডার চুরির লক্ষ্যে। মূলত উচ্চ পর্যায়ের সরকারি আধিকারিকদের ইমেলকে টার্গেট করা হচ্ছে। সেখান থেকে সেই আধিকারিকদের ‘ক্রেডেনশিয়াল’ হাতিয়ে সরকারি তথ্যভাণ্ডার চুরির পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ডিএসসিআই তাদের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে জানিয়েছে, ভারতের অপারেশন সিন্দুর সফল। এবার তাই এদেশের এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে হানা দিতে চাইছে পাকিস্তান। প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান, ডিআরডিও-র তথ্য হাতানোর উদ্দেশে একাধিকবার ম্যালওয়্যার পাঠানোর চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের ছক বানচাল করে দিয়েছে ভারতের সুরক্ষা বেষ্টনী।
  • Link to this news (বর্তমান)