কলকাতার ১১ আসনে বাদ যাচ্ছে ৬ লক্ষ নাম! শীর্ষে চৌরঙ্গি, নেই ৭৪ হাজার
বর্তমান | ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআরে কলকাতার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অন্তত ৬ লক্ষ নাম বাদ যাচ্ছেই। এর মধ্যে সব থেকে বেশি নাম বাদ পড়ছে চৌরঙ্গি বিধানসভায়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, সংখ্যাটা সাড়ে ৭৪ হাজারের বেশি। তালিকায় তারপরেই রয়েছে জোড়াসাঁকো বিধানসভা। সেখানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই দুই বিধানসভা মূলত অবাঙালি অধ্যুষিত। তাই কোনও কোনও মহল মনে করছে, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার ফলে এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের বর্তমান জনবিন্যাস বদলে যেতে পারে। রাজনীতির কারবারিরাও এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সহমত হচ্ছেন। কারণ, ভোটার তালিকার এই নিবিড় সংশোধনের পর বিশেষ করে চৌরঙ্গি বিধানসভায় অবাঙালি ভোটারের সংখ্যা কমতে চলেছে বলেই মনে করছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে জল মাপছে সব রাজনৈতিক শিবির। চলছে দলগুলির নিজস্ব হিসেব-নিকেশ।
ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন সূত্রে যে তথ্য মিলেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, চৌরঙ্গি বিধানসভা অঞ্চলে মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার ও ‘ডবল এন্ট্রি’ ভোটার মিলিয়ে মোট ৭৪ হাজার ৫৫৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। একইভাবে জোড়াসাঁকো বিধানসভা এলাকায় তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ৭২ হাজার ৯০০ জনের নাম। কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত চৌরঙ্গি বিধানসভা এলাকার মধ্যে একটি মাত্র ওয়ার্ড বিজেপির দখলে। সেই ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। জোড়াসাঁকো বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত দু’টি ওয়ার্ডে রয়েছেন বিজেপির কাউন্সিলার।
বিজয় ওঝা এবং মীনাদেবী পুরোহিত। তবে গত একাধিক নির্বাচনে এই দু’টি বিধানসভা রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। এই অবস্থায় এসআইআর পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর জনবিন্যাসের কী চিত্র দাঁড়াবে, সেদিকে কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে আছে সব পক্ষ।
উত্তর কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার বক্তব্য, এই দুই বিধানসভা অবাঙালি অধ্যুষিত। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও অনেক ভোট রয়েছে। যেসব হিন্দি ভাষাভাষী ভোটার এতদিন এখানে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা বেশিরভাই কর্মসূত্রে চৌরঙ্গি বা জোড়াসাঁকো এলাকায় থাকতেন। তাঁদের একটা বড় অংশ এবারের বিহারে নির্বাচনের সময় সেখানকার ভোটার তালিকাতেই নাম রেখেছেন। ‘ডবল এন্ট্রি’র সুযোগ না থাকায় বাংলার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে না। পাশাপাশি রয়েছেন প্রচুর সংখ্যক ওড়িয়া ভোটার। তাঁদের একাংশের নামও বাদ যাবে। এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির তরফে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শিশির বাজোরিয়া বলেন, ‘এসআইআর হচ্ছে ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ। সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশকারী বাংলায় রয়েছে। এসআইআরে তাঁদের নাম বাদ যাবে। চৌরঙ্গি, জোড়াসাঁকো এবং বালিগঞ্জ—এই তিন বিধানসভা এলাকাতেই প্রচুর অনুপ্রবেশকারী রয়েছে। তাঁদের নাম বাদ যাওয়া স্বাভাবিক।’
যদিও এসআইআর পরবর্তী পর্বে চৌরঙ্গি এলাকার এই জনবিন্যাস বদল বিজেপিকে লাভবান করবে বলে মনে করছে না রাজ্যের শাসক দল। ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার বিশ্বরূপ দে বলেন, ‘এটা ঠিক যে অনেক ভোটারের নাম বাদ যাবে। বহু হিন্দিভাষী মানুষ, যাঁদের অন্য জায়গায় বাড়ি, তাঁরা এসআইআরে বাংলার এই অঞ্চলের ভোটার তালিকায় নাম তোলেননি। তবে যাঁরা এটা ভেবে উল্লসিত যে মুসলিম ভোট কাটার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের অসুবিধা হবে, তাঁদের মাথায়
রাখা উচিত, হিন্দিভাষী হিন্দু ভোট কাটা গেলে তাদেরও সমস্যা বাড়বে।’