যুবভারতী কাণ্ড: ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিরে গেলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা
বর্তমান | ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ কয়েকমাসের প্রচার। তুঙ্গে উন্মাদনা, কিন্তু এক মুহূর্তে সবটাই ভণ্ডুল হয়ে গেল। গতকাল, শনিবার যুবভারতীতে এসেছিলেন ফুটবলের জাদুকর, বিশ্বকাপজয়ী লায়োনেল মেসি। তাঁকে দেখার জন্য টিকিট কেটে হাজির হয়েছিলেন বহু ফুটবলপ্রেমী তথা মেসি ভক্তরা। কিন্তু ১৮ মিনিটেই তাল কাটে। মাঠে মেসি প্রবেশ করতেই তাঁকে ঘিরে ফেলেন মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত থেকে মন্ত্রী-সান্ত্রী, আমলা, টলিউডের একাধিক নায়িকা, আয়োজকদের পেটোয়া কলমচি, কতিপয় ফুটবল কর্তা এবং তথাকথিত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। শুরু হয়ে যায় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি দেখে ক্ষুব্ধ মেসি মাঠ ছাড়েন অল্প সময়ে। তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শক থেকে মেসি ভক্তরা।মোটা টাকা দিয়ে টিকিট কেটে মেসি ‘দর্শন’ না হওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভপ্রকাশ করেন সকলে। আর সেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে যুবভারতীতে। স্টেডিয়ামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জলের বোতল বৃষ্টি সব কিছুই চলতে থাকে। ক্ষুব্ধ দর্শকদের হাত থেকে রেহাই পাননি মাঠে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরাও। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে স্তম্ভিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন তিনি। সেই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রাক্তন বিচারপতি অসীম কুমার রায়কে। এছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। যুবভারতীতে অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে প্রাক্তন বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি।আজ, রবিবার সকালে যুবভারতীতে গিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ক্রীড়া সচিব রাজেশ সিনহা। গোটা স্টেডিয়াম ঘুরে দেখেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ভিডিওগ্রাফিও করা হয়েছে। সূত্রের খবর, মেসির সফরের এই বিশৃঙ্খলা নিয়ে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে তদন্ত কমিটি। কিছুক্ষণ আগেই যুবভারতীতে পৌঁছেছেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসও। পুলিশ সূত্রে খবর, গতকালের অশান্তির জেরে যুবভারতীতে প্রায় দু’কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গতকালই এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আজ, রবিবার শতদ্রুকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ করে দেন বিচারক। শতদ্রুর ১৪ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।