ভবানন্দ সিংহ: ইসলামপুর ব্লকের মাটিকুন্ডা–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝলঝলি এলাকায় শনিবার ভয়াবহ পরিণতি। দীর্ঘদিনের জমি-বিবাদ। দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল ১২ বছরের নাবালিকা কৌশিরা বেগমের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল। শনিবার সেই বিবাদ চরমে ওঠে। গোলমালের মধ্যেই আচমকা গুলি চলে এবং তাতেই গুরুতর জখম হয় কৌশিরা। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অভিযোগ, শনিবার রাতে দুস্কৃতীরা ঘরে ঢুকে ১২ বছরের নাবালিকা কৌশিরাকে ছররা গুলিতে ঝাঁঝরা করে খুন করে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে, গ্রামে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছিল। তারই মাঝে মাত্র এক শতক জমির দখল নিয়ে বিবাদ বাঁধে মহাম্মদ জাহিদ ও হাকিমুদ্দিন নুর আলমদের মধ্যে। বিষয়টি গ্রাম্য সালিশির মাধ্যমে মেটানোর কথা থাকলেও অভিযোগ, শনিবার রাতে আচমকাই জাহিদের বাড়িতে হামলা চালায় হাকিমুদ্দিন বাহিনী। এলাকায় বোমাবাজির অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার সময় জাহিদ বাড়িতে থাকলেও হামলার মুখে তিনি পালিয়ে যান বলে দাবি। সেই সময় ঘরের ভিতরে শুয়ে ছিল তার নাবালিকা মেয়ে কৌশিরা। অভিযোগ, দুস্কৃতীরা ঘরে ঢুকে বিছানার মধ্যেই কৌশিরাকে ছররা গুলিতে গুলি করে খুন করে।
ঘটনার পর পুলিস কয়েকজনকে আটক করেছে বলে খবর। ইসলামপুর থানার পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মহাম্মদ রফিক আলম জানান, 'ওরা লাগাতার এলাকায় বিবাদ সৃষ্টি করে। আট দিন আগে জমি বিবাদ নিয়ে নেতৃত্বরা স্পটে গিয়েছিল। সেই সময় নেতাদের সামনেই জাহিদের উপর চড়াও হয় হাকিমুদ্দিনরা। পুলিসি হস্তক্ষেপে তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। আজ পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়ে নাবালিকা মেয়েটিকে খুন করা হয়েছে। আমরা দোষীদের কঠোর আইনি শাস্তি চাই।' মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ এলাকা। আতঙ্কের পরিবেশে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নাবালিকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থল ও ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জমি-বিবাদ ঘিরে কীভাবে গুলি চলল, কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও চাঞ্চল্যের ছায়া।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় ১০ বছরের নাবালিকা। তৃণমূলের বিজয় মিছিলে ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, তৃণমূলের জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নদিয়ার কালীগঞ্জে ঘটে ঘটনাটি। গণনা চলাকালীন কালিগঞ্জ-এর বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল বিজয় মিছিল শুরু করে দেয়। পলাশির মোলান্দি গ্রামের এমন এক বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া শকেট বোমায় প্রাণ হারায় দশ বছরের তামান্না খাতুন। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। সিপিআইএম সমর্থক পরিবারের মেয়ে।