পাটনা: সদ্য সমাপ্ত বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বারবার ‘জঙ্গলরাজ’ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-মন্ত্রীরা। কিন্তু এনডিএ-র ভোটে জয়ের এক মাসের মধ্যেই এক ভয়ংকর ঘটনার সাক্ষী থাকল মোদি-নীতীশের বিহার। এবার গণপিটুনির জেরে মৃত্যু হল এক প্রৌঢ়ের। মহম্মদ আতার হুসেন নামে ওই প্রৌঢ়ের হাত ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি কান ও আঙুল কেটে নেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়। গরম রড দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার পর তাঁকে বিবস্ত্র করে গোপনাঙ্গ পরীক্ষা করা হয়। অকথ্য অত্যাচারের জেরে শুক্রবার গভীর রাতে মৃত্যু হয়েছে গগন দিওয়ান গ্রামের ওই কাপড় বিক্রেতার। নালন্দা জেলার এই ঘটনা এপর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক দুই নাবালক।
৫ ডিসেম্বর রাতে বাড়ি ফিরছিলেন হুসেন। ভাট্টাপার গ্রামের কাছে তাঁর সাইকেলের টায়ার ফুটো হয়ে যায়। পথে কয়েকজনকে সাইকেল সারাইয়ের দোকানের কথা জিজ্ঞাসা করেন তিনি। অভিযোগ, এরপরই তাঁর নাম, পেশা সহ পরিচয় জানতে চায় তারা। তাঁকে হেনস্তা করার পাশাপাশি নৃশংসভাবে মারধর করা হয়। প্রৌঢ়ের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা লুট করে নেয় হামলাকারীরা। গুরুতর জখম অবস্থায় হুসেনকে প্রথমে রোহর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পাওয়াপুরী ভিআইএসে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গণপিটুনির ঘটনায় এক সন্দেহভাজন সিকন্দর যাদব আক্রান্ত হুসেনের বিরুদ্ধেই পালটা অভিযোগ এনেছেন। সিকন্দরের বক্তব্য, ‘ওইদিন রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ চুরি করতে এসেছিলেন হুসেন। বাড়ি থেকে সোনা-রূপোর গয়না, পিতলের বাসনপত্র নিয়ে পালাচ্ছিলেন। সেইসময় আমার ভাই সত্যনারায়ণ তাকে ধরে ফেলে। নিজেকে বাঁচাতে হুসেন সত্যনারায়ণকে রড দিয়ে মারধর করে।’
খবর পেয়ে রাত আড়াইটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। নওয়াদার এসপি অভিনব ধিমান জানিয়েছেন, তদন্তের জন্য এসডিপিও-র নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।