গোয়া কাণ্ড: আজ-কালের মধ্যেই ভারতে ফেরানো হবে লুথরা ভাইদের
বর্তমান | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
নয়াদিল্লি: নাইটক্লাবে আগুন লেগেছে। হতে পারে বড়সড় ক্ষতি। খবর পাওয়ামাত্র থাইল্যান্ড পালানোর ছক কষে ফেলেন লুথরা ভাতৃদ্বয়। এদিকে যখন একের পর এক মৃত্যুর খবর সামনে আসছে, তখন থাইল্যান্ড পৌঁছে গা ঢাকা দিয়েছেন তাঁরা। কীভাবে এইসব পরিকল্পনা হয়েছিল, সাহায্যই বা করেছিল কে, তদন্ত উঠে আসছে সেই তথ্য। ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে লুথরাদের। সব ঠিক থাকলে আজ-কালের মধ্যেই ভারতে ফেরানো হবে তাঁদের।
গৌরব ও সৌরভ লুথরা সেদিন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। আগুন লাগার খবর পেয়েই দিল্লির মডেল টাউনে তাদের অফিসে ফোন করে থাইল্যান্ডের টিকিট বুক করতে বলেন। ভরত কোহলি নামে এক সহকারীকে নির্দেশ দেন, অফিস থেকে কিছু কাগজপত্র নিয়ে মুখার্জি নগরের বাড়িতে রেখে আসার। এরপর বিয়েবাড়ি থেকে সোজা নিজেদের বাড়িতে চলে যান দুই ভাই। সেখান থেকে থাইল্যান্ড। এক্ষেত্রে তদন্তকারী মহলে প্রশ্ন উঠেছে, কেন অন্য সব দেশ ছেড়ে থাইল্যান্ডেই পালালেন তাঁরা? দীর্ঘমেয়াদী ব্রিটেনের ভিসা থাকা সত্ত্বেও, কেন এমনটা করলেন তাঁরা, চলছে সেই খোঁজ। অন্যদিকে, নাইটক্লাব বিপর্যয়ের পর গা ঢাকা দেন লুথরাদের ব্যবসার অন্যতম সঙ্গী অজয় গুপ্তা। যদিও তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁকে জেরা করে বিভিন্ন তথ্য মিলেছে।
নাইটক্লাব অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ২৫ জন। অধিকাংশই ছিলেন ওই ক্লাবের কর্মী। আগুন লাগার কারণ নিয়ে একাধিক তত্ত্ব উঠে আসে। একইসঙ্গে জানা যায়, ক্লাবটিতে আগুন সংক্রান্ত নিরাপত্তায় বিস্তর ফাঁক ছিল। একটাও কার্যকারী অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ছিল না। গোটা ক্লাবে ছিল না কোনও সুরক্ষা অ্যালার্ম। প্রবেশপথ এতটাই সরু ছিল যে বিপদের সময় দমকলের গাড়ি ঢুকতে বেগ পাবে। আপদকালীন প্রস্থানের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। তাই আগুন লাগার পরিণতি হয়েছে মারাত্মক। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের এফআইআর অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি এবং লাইসেন্স ছাড়াই ক্লাবটি পরিচালিত হচ্ছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, ক্লাব কর্তৃপক্ষকে বারবার সতর্ক করার পরেও নিরাপত্তা ত্রুটিগুলি সংশোধন করা হয়নি। এইসব গাফিলতির কথা লুথরা ভাইয়েরা ভালোমত জানতেন। আর তাই বিপর্যয়ের খবর পেতেই দেশ ছেড়ে পালান দুজনে। তাঁদের ধরতে ব্লু কর্নার নোটিশ জারি হয়।