• ‘মোদি-শাহর সরকার হটাবই’, রামলীলা ময়দানের সভায় চ্যালেঞ্জ রাহুল গান্ধীর
    বর্তমান | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছেন মোদি। হাত কাঁপছে অমিত শাহর। কারণ, ওঁরা বুঝে গিয়েছেন ভোট চুরি করে জেতার ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে গেছে। বিজেপির ডিএনএ’তে রয়েছে ভোট চুরি। রবিবার রামলীলা ময়দানে দলের সভা থেকে এভাবেই প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করলেন রাহুল গান্ধী। মোদি-শাহকে ‘গদ্দার’ বলে তোপ দাগলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও। জনসভায় রাহুল বললেন, ক্ষমতার শক্তি বড় নয়। সত্যের শক্তিই বড়। আর সেই শক্তিতে ক্ষমতার কুর্সি থেকে উৎখাত করব মোদি, অমিত শাহকে। কেরলের পুরসভা নির্বাচনের ফলাফলে ‌উজ্জ্বীবিত হয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন রাহুল। বললেন, ভোট চুরি করে জিতছেন মোদি-শাহ। তাই ধৈর্য ধরুন, সময় আসবেই। নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের আরএসএসের সরকার হটাবই। নির্বাচন কমিশনারদের বাঁচানোর আইন বদলাব। অ্যাকশন নেব। 

    কংগ্রেসের আয়োজনে এদিন ছিল ‘ভোট চোর, গদ্দি ছোড়’ সভা। দিল্লির দূষণ উপেক্ষা করেও উপস্থিত ছিলেন সোনিয়া গান্ধী। বেঙ্গালুরুতে পুত্রের অপারেশনের কথা জেনেও হাজির থাকলেন খাড়্গে। বললেন, আমার ছেলের আট ঘণ্টার অপারেশন। পরিবার থেকে পাশে থাকার জন্য বারবার ডেকেছে। কিন্তু সীমান্তে জওয়ানরা পরিবার ছেড়ে কর্তব্যে অবিচল থাকেন। দেশের জন্য ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী প্রাণ দিয়েছেন। সোনিয়া গান্ধী স্বার্থত্যাগ করেছেন। আর আমি পারব না? তাই এখানে এসেছি। দেশের সন্তানদের জন্য নিজের সন্তানকে বড় করে দেখিনি। কারণ লক্ষ্য একটাই গদ্দারদের হটানো। খাড়্গে একথা বলার পর তাঁকে সম্মান জানাতে সভামঞ্চে হাজির রাহুল, সোনিয়া, প্রিয়াঙ্কা, অধীররঞ্জন চৌধুরী, শচীন পাইলট সহ কংগ্রেস নেতাদের সবাই আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। দিলেন হাততালি। উপস্থিত জনতাও স্লোগান তুলল, কংগ্রেস পার্টি জিন্দাবাদ। বহুদিন পর কংগ্রেসের আয়োজনে রামলীলার জনসভায় জমেছিল ভিড়। দলের সব রাজ্য নেতৃত্বকে বলা হয়েছিল, স্রেফ কর্মী-সমর্থকই নয়, ভোট চুরির প্রতিবাদে আনতে হবে সাধারণের স্বাক্ষর। সেই মতো হয়েছে ৫ কোটি সই সংগ্রহ। এদিনের মঞ্চ থেকে সেরকমই দাবি কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালার। যা প্যাকেটবন্দি করে রাখা ছিল বক্তৃতা মঞ্চের সামনে। ওই প্যাকেটের পাহাড় পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনে। 

    প্রিয়াঙ্কা বলেন, সংসদে চোখের দিকে সরাসরি তাকাতে পারেন না মোদি-শাহ। কারণ ওঁরা জানেন, কমিশনের সাহায্য ছাড়া জিততে পারবেন না। তাই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছি, হিম্মত থাকলে পেপার ব্যালটে ভোট করুন। রাহুল বলেন, ভেবেছিলাম অন্য কিছু বলব। কিন্তু এখানে আসার সময় শুনলাম মোহন ভাগবত বলেছেন, সত্য নয়। শক্তিই আসল। শক্তিকেই গোটা বিশ্বকে মান্যতা দেয়। তাই আমিও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলছি, গান্ধীজির দেখানো পথে সত্য আর অহিংসাই আনবে পরিবর্তন। সত্যের কী শক্তি, তা সময়মতোই টের পাবেন মোদি-শাহ। কংগ্রেস সভাপতিও জুড়লেন, আমরা হেরে গেলেও হারিয়ে যাই না। মোদি হারলে দেখবেন বিজেপির নাম-নিশান থাকবে না।
  • Link to this news (বর্তমান)