নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একবছরের টালবাহানা শেষ। অবশেষে বিজেপির পরবর্তী সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি পদে নিযুক্ত হলেন বিহারের মন্ত্রী নীতিন নবীন। সূত্রের দাবি, মকর সংক্রান্তির দিন ৪৫ বছর বয়সি আরএসএস-ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে দলের জাতীয় সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ঠিক যেমন অমিত শাহের পর জগৎপ্রকাশ নাড্ডাকে দলের কার্যনির্বাহী সভাপতি করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় শাসক দলের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছিল তাঁর হাতেই।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বিজেপির। আর সেবছরই জন্মেছিলেন এবিভিপি-যুব মোর্চার মতো ছাত্র-যুব শাখা করে নিজের ছাপ ফেলা নীতিন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে বাঁকিপুর (সাবেক পাটনা পশ্চিম) কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন। তারপর টানা পাঁচবারের বিধায়ক। বিহারের সড়ক নির্মাণ দপ্তরের দায়িত্বে থাকা নীতিন পড়শি রাজ্যের রাস্তাঘাটের হাল বদলে দিয়েছেন। সংগঠনে তাঁর নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিভিন্ন সময়ে নানা নজির গড়েছে।
সেই সূত্রেই নীতিন কেন্দ্রীয় নেতাদের চোখে পড়েছিলেন। তারপরই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। ছত্তিশগড় বিজেপির যাবতীয় দায়িত্ব মোদি-শাহ এই যুব নেতার উপর ছেড়েছিলেন। হাতেনাতে তার ফল পেয়েছে দল। ছত্তিশগড় জয়ের নেপথ্য কারিগর হিসেবে আড়ালে থেকেই রণকৌশল সাজিয়েছিলেন নীতিন।
এহেন পরীক্ষিত যুবনেতার কাঁধেই বিজেপির সর্বভারতীয় দায়িত্ব উঠতে চলেছে। সভাপতি পদে যোগ্য প্রার্থী চয়ন ঘিরে আরএসএসের সঙ্গে মোদি-শাহের সংঘাত চলছিল বলে ওয়াকিবহাল মহলের দাবি। শেষমেশ নীতিন নবীনের পক্ষে দু’পক্ষই সহমতে পৌঁছোল।
রবিবার নীতিন নবীনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘অমায়িক আচরণ এবং তৃণমূল স্তর থেকেই কাজ করার ধারাবাহিকতা তাঁকে (নীতিন) সব মহলের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। আমি নিশ্চিত, তাঁর দক্ষতা ও একান্ত প্রচেষ্টা আগামী দিনে দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি হওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছা।’ বিদায়ী সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা লিখেছেন, ‘নীতিনের নেতৃত্বে দল অন্য উচ্চতায় পৌঁছোবে।’
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীকে উত্তরপ্রদেশ বিজেপির রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল আসন্ন বলেও মনে করা হচ্ছে।