• শ্যামপুকুরের মুক্ত পাঠাগারে বইপত্র ও মনীষীদের ছবি সাফ করাই নেশা বৃদ্ধের
    বর্তমান | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • সুকান্ত বসু, কলকাতা: অনেকেই তাঁকে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘ঘরের খেয়ে বোনের মোষ তাড়াচ্ছেন’। এসব কথায় কান না দিয়ে নিজের কাজ নিজেই করে চলেন শ্যামল দাস। বছর তেষট্টির এই বৃদ্ধ আজও পাঠাগারে ঢুকে বই ও বইয়ের র‌্যাকের ধুলো পরিষ্কার করেন। এটাই তাঁর নেশা। উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরের একটি মুক্ত পাঠাগারে বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন মনীষীর ছবিও নিয়মিত সাফ-সাফাই করেন শ্যামলবাবু।

    শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন জগৎ মুখার্জি পার্কের এই মুক্ত পাঠাগারে। তাঁরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে বসে বই পড়তে পারেন, সেকারণে লাইব্রেরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালান এই বৃদ্ধ। বঙ্গবাসী কলেজের প্রাক্তনী শ্যামলবাবু কথা প্রসঙ্গে বলেন, অনেকের অনেক ধরনের নেশা রয়েছে। আমার নেশা বইপড়া। আর তা থেকেই বইপত্র পরিষ্কারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আজকের প্রজন্ম সামাজিক মাধ্যমের প্রতি আকৃষ্ট। তা সত্ত্বেও এই পাঠাগার যে বেঁচে আছে, এখানে যে অসংখ্য মানুষ আসছেন, তা দেখে ভালো লাগছে। এই পাঠাগারকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। সেই দায় থেকেই এই কাজ করছি। তাঁর কথায়, কোনও কাজই ছোট নয়। বইয়ের দুলো পরিষ্কার করতে ভালোই লাগে। যতদিন শরীর সায় দেবে, ততদিন এই কাজ করব। এখানে নানা ধরনের বই আছে। আছে হাজার চারেক পত্রিকাও।

    এখানকার নিরাপত্তারক্ষী সত্যরঞ্জন দোলুই এক সময়ে বিভিন্নজনের থেকে চেয়েচিন্তে বই জোগাড় করে এই পাঠাগার চালু করেছিলেন। এখনও তিনি সময় পেলে বই জোগাড় করে বেড়ান। যতদিন বাড়ছে, এই পাঠাগারে বইয়ের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। সত্যবাবু বলেন, শ্যামলবাবু এই বয়সেও নিজের উদ্যোগে লাইব্রেরিকে সাফসুতরো রাখার চেষ্টা করেন। তাঁর মতো আরও মানুষ যত এগিয়ে আসবেন, পাঠাগারের ক্ষেত্রে ততই ভালো। স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, এই পাঠাগারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় কাউন্সিলার পূজা পাঁজা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। আগামী দিনে যাতে একে আরও সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা যায়, তার চেষ্টা করছেন তিনি। উত্তর কলকাতার এই মুক্ত পাঠাগারে প্রায় প্রতিদিন বইপত্র ও বিশিষ্টদের ছবি পরিষ্কার করতে পেরে গর্ব অনুভব করেন শ্যামলবাবু।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)