• জীবিত হয়েও বেহালার ২০ ভোটার ‘মৃত’, কমিশনের তালিকায় ক্ষোভ
    বর্তমান | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিব্যি বেঁচেবর্তে আছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নথিতে তাঁরা ‘মৃত’! তাই যে ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ইনিউমারেশন ফর্ম বণ্টন হয়েছে, সেই তালিকায় তাঁদের নাম নেই। স্বভাবতই ‘মৃত’ ভোটাররা ফর্ম পাননি। নির্বাচন কমিশনের এহেন কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ওই ভোটাররা। ভোটাধিকার হারানোর ভয় তাড়া করছে তাঁদের। বিষয়টি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে বেহালা পশ্চিম বিধানসভা এলাকায়।

    অভিযোগ, ওই বিধানসভার ৬৯ ও ১০১ নম্বর পার্টের মোট ২০ জন জীবিত ভোটারকে ‘মৃত’ বলে দাবি করছে নির্বাচন কমিশন। ২০২৫-এর জানুয়ারি মাসের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকলেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাঁদের নাম গায়েব! কীভাবে এমনটা ঘটল? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। সংশ্লিষ্ট বিএলও এর কোনও জবাব দিতে পারেননি বলেই দাবি ভুক্তভোগীদের। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ তারক সিং নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখেছেন। ইআরও-কে দেওয়া সেই চিঠিতে ওই ভোটারদের নাম, ঠিকানা, ভোটার কার্ডের প্রতিলপি, পুরোনো ভোটার তালিকায় থাকা তাঁদের নাম সহ যাবতীয় নথি যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

    ২০, এ জে কে পাল রোডের বাসিন্দা শুকদেবরূপ রায়। নিউ আলিপুর থানা এলাকায় ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর অঞ্চলের বাসিন্দা তিনি। বেহালা পশ্চিম বিধানসভার ৬৯ নম্বর পার্টে রয়েছে এলাকাটি। শুকদেববাবুর মা প্রয়াত হয়েছেন আগেই। এসআইআর পর্বে বাড়িতে বিএলও আসতেই তাঁর মাথায় হাত! কারণ, বিএলও যে ভোটার তালিকা দেখে ফর্ম বিলি করছিলেন, তাতে শুকদেববাবুর নাম নেই। তাঁর কথায়, ‘মা মারা গেলেও বিএলও মায়ের ফর্ম দিয়ে গেলেন। অথচ আমার ফর্মই পেলাম না। আমার নাম নাকি ওঁর তালিকায় নেই।’ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন বলে জানান তিনি। ২০২৫ সালের প্রথম দিকের যে ভোটার তালিকা রয়েছে, তাতেও তাঁর নাম রয়েছে। কিন্তু, চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর পরিবারের সবার নাম থাকলেও তাঁন নামই উধাও। স্বগতোক্তির সুরে শুকদেববাবু বলছিলেন, ‘তাহলে কি বাংলাদেশি হয়ে গেলাম! আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। শুনেছি, কাউন্সিলারের তরফে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে। দেখা যাক কী হয়।’

    একই পরিস্থিতি বেহালার ১৪, রায় বাহাদুর রোডের বাসিন্দা মামনি দাসের। তিনি বেহালা পশ্চিম বিধানসভার ১০১ নম্বর পার্টের ভোটার। তাঁর কথায়, ‘বাড়ির সবার ফর্ম এসেছে। আমারটাই আসেনি। আমি নাকি মারা গিয়েছি! নির্বাচন কমিশনের গাফিলতি ছাড়া একে আর কী বলা যায়! এখন কীভাবে আবার নাম উঠবে, বুঝতে পারছি না। খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।’

    কাউন্সিলার তারকবাবু বলেন, ‘ইআরও-কে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এরকম গুরুতর একটি বিষয় নির্বাচন কমিশন ক্যাজুয়ালভাবে নিতে পারে না। বেঁচে থাকা লোককে মৃত বলে দিচ্ছে! এতটা গাফিলতি কীভাবে হতে পারে? ওরা কী পদক্ষেপ করে দেখি। না হলে আইনের পথ তো খোলা আছেই।’
  • Link to this news (বর্তমান)