• শুনানিতে বনগাঁর প্রায় ৪ লক্ষ ভোটার! ঘুম উড়েছে মতুয়াদের
    বর্তমান | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে! ‘মতুয়াগড়’ বনগাঁয় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে কয়েক লক্ষ নাম! নিজেদের যোগ্য  ভোটার প্রমাণ করতে শুনানির মুখোমুখি হতে হবে বনগাঁ মহকুমার প্রায় ৪ লক্ষ মানুষকে। তার মধ্যে লক্ষাধিক নাম শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত ‘নো ম্যাপিং’ ভোটার এবং ‘সন্দেহজনক’ প্রজেনি ভোটারদের শুনানিতে হাজির হতে হবে। পরিসংখ্যান বলছে, বনগাঁর মোট ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭৯০ জন। এঁদের ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় নাম আছে। বিগত নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের ‘নো ম্যাপিং’ চিহ্নিত করার কারণ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম বা তাঁদের পরিবারের কারও নাম নেই। মহকুমায় মোট ‘প্রজেনি ভোটার’ ৪ লক্ষ ৮২ হাজার ২০৭ জন। এঁরা মা-বাবা বা আত্মীয়দের পরিচয়ে ফর্ম পূরণ করেছেন। এক্ষেত্রে গোটা রাজ্যের যা ‘ট্রেন্ড’, সেই অনুযায়ী প্রায় অর্ধেক ‘প্রজেনি ভোটার’ যে আত্মীয়তার সূত্র উল্লেখ করেছেন, তা ‘সন্দেহজনক’ বলে মনে করছে কমিশন। তাঁদেরও ডাকা হবে শুনানিতে। ফলে ‘নো ম্যাপিং’ এবং ‘সন্দেহজনক’ অংশ মিলিয়ে প্রায় ৪ লক্ষ মানুষকে শুনানিতে গিয়ে প্রামাণ্য নথি দাখিল করতে হবে। বলা বাহুল্য, এর একটা বড় অংশই মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। 

    ৪ নভেম্বর থেকে এসআইআর শুরু হয়েছে। প্রথম থেকেই তৃণমূল দাবি করে আসছে এসআইআরে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন মতুয়ারা। ইতিমধ্যে বনগাঁ মহকুমায় মতুয়াদের সেই দুর্দশার ইঙ্গিত মিলছে! সূত্রের খবর, মহকুমায় ৪৫ শতাংশ মতুয়া ভোটার। এর পাশাপাশি রয়েছে নমঃশূদ্র, উদ্বাস্তু, এসসি, এসটি ভোটার। ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পদ্ম শিবিরের ঘোষণা ছিল, মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। সেই কাজ কতটা হয়েছে বা আদৌ হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন বিস্তর চর্চা চলছে বনগাঁজুড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ করতে নেমেছে বিজেপি প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ। ঢোঁক গিলে মতুয়াদের বিড়ম্বনার কথা তারা মেনেও নিচ্ছে। বিজেপি প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন গাইন বলেন, ‘এসআইআরে ম্যাপিং হয়নি, এরকম বহু মানুষ রয়েছে। মতুয়ারাও আছেন সেই তালিকায়। আমরা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এনিয়ে আলোচনা করব।’ পালটা তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘আমাদের নেত্রী যেটা বলেছিলেন, সেটাই হল। মতুয়ারা যাদের এতদিন ভোট দিচ্ছিলেন, তাদের ভুমিকা কী? দলের নির্দেশে আমরা তাঁদের পাশে থাকছি।’ 

    জানা গিয়েছে, বনগাঁ মহকুমার বনগাঁ উত্তর বিধানসভার মোট ভোটার ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩৭৫ জন। এর মধ্যে ইনিউমারেশন ফর্ম জমা পড়েছে ২ লক্ষ ৪১ হাজার ৩২২টি। ‘নো ম্যাপিং’ ৩০ হাজার ২০৮। আর প্রজেনি ভোটার ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৬৯২ জন। মৃত, স্থানান্তরিত সহ একাধিক কারণে নাম বাদ যাচ্ছে ২৬ হাজার ৫৩ জনের। বনগাঁ দক্ষিণে মোট ভোটার ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৩৭৬। ইনিউমারেশন ফর্ম জমা পড়েছে ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮১৪টি। ‘নো-ম্যাপিং’ ২৮ হাজার ৫২৫। প্রজেনি ভোটার ১ লক্ষ ২১ হাজার ১১০ জন। নাম বাদ যাচ্ছে ১৮ হাজার ৫৬২ জনের। বাগদা বিধানসভার ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬৯। ইনিউমারেশন জমা পড়েছে ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ১৪৭টি। ‘নো-ম্যাপিং’ ৩৬ হাজার ৫৬৭,  প্রজেনি ভোটার ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৫৪৯। নাম বাদ যাচ্ছে ২৪ হাজার ৯২২ জনের। গাইঘাটা বিধানসভায় মোট ভোটার ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ২৯৪ জন। এখানে ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ৬৩৯টি ইনিউমারেশন ফর্ম জমা পড়েছে। ‘নো ম্যাপিং’ ৩৮ হাজার ৪৯০। প্রজেনি ভোটার ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৫৬ জন। নাম বাদ যাচ্ছে ১৬ হাজার ৬৫৫ জনের। 
  • Link to this news (বর্তমান)