নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বলতে যা বোঝায়, কলকাতায় তা এখনও অধরা। তবে ঠান্ডা যে একেবারে নেই, তা নয়। রবিবার কলকাতা শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। সেই সঙ্গে সকাল থেকে ছিল চড়া রোদ। আর শীতের সেই চড়া রোদ গায়ে লাগিয়ে শহর ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ল আট থেকে আশি। বছর শেষ হতে চলেছে। ধুমধাম করে ক্রিসমাস, নিউ ইয়ার উদযাপনের হাতছানি। তার উপর ছিল রবিবার। এমন দিনে কি ঘরে বসে থাকা যায়! তাই ভিক্টোরিয়া থেকে চিড়িয়াখানা, জাদুঘর থেকে তারামণ্ডল—সর্বত্রই দেখা গেল থিকথিকে ভিড়। কেউ সপরিবারে চিড়িয়াখানা ঘুরে বেড়িয়েছেন। কেউ আবার ময়দানে বসেই কাটিয়েছেন সময়। নিউ মার্কেট চত্বরে ছিল চোখে পড়ার মতো জনসমাগম। চলল দেদার কেনাকাটা। রবিবার নিউ মার্কেট চত্বরের ভিড় কার্যত দুর্গাপুজোর প্রাক্কালের ভিড়কে মনে করিয়ে দিয়েছে। বিকেলের দিকে ময়দান চত্বরে গিয়ে দেখা গেল, বিস্তীর্ণ চত্বর জুড়ে নিজেদের মতো করে আনন্দে মেতে আছেন অসংখ্য মানুষ। ঘোড়ার পিঠে উঠে দু’পাক ঘুরে নেওয়া যেমন ছিল, তেমনই খুদেরা মেতে উঠেছিল ব্যাডমিন্টন খেলায়। ময়দানের মাঝখানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ফুটবল ম্যাচ চলতেও দেখা গেল। সব জায়গাতেই মানুষের আলোচনায় বারবার ঘুরেফিরে এসেছে মেসি ও যুবভারতীর প্রসঙ্গ। এখান থেকে সল্টলেক স্টেডিয়াম কত দূর? শোনা গেল এমন প্রশ্নও। নন্দন-রবীন্দ্রসদন, মোহরকুঞ্জ, বিড়লা তারামণ্ডল—সর্বত্রই লোকজনের ব্যাপক ভিড় চোখে পড়েছে। শহরের আরেক প্রান্তে ইকো পার্কে যথারীতি হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড় জমেছিল।
হাওড়ার আমতা থেকে এসেছিলেন সৌমিত্র ঘোষ। তিনি বললেন, ‘রবিবার পরিবারকে নিয়ে একটু বেরোলাম। সবাই মিলে চিড়িয়াখানায় গেলাম। এবার কিছু হাল্কা খাওয়াদাওয়া করে বাস ধরব।’ ময়দানে তরুণ-তরুণীদের ভিড়ে দেখা গেল সেলফি তোলার ধুম। মধ্যমগ্রামের একদল কলেজ পড়ুয়া গড়ের মাঠে গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক তরুণী বললেন, ‘আমরা বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে এসেছিলাম। ময়দানে বসেই একটা কিটি পার্টি হয়ে গেল। আবার ২৫ ডিসেম্বর আসব। তখন পার্ক স্ট্রিটে যাব। ভালো ভালো ছবি তুলব।’ সব মিলিয়ে এই রবিবার শহরের হালচাল বুঝিয়ে দিয়েছে, শীতকালীন উৎসবে মেতে ওঠার জন্য কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। পরবর্তী উইক-এন্ডে যে ছবিটা আরও স্পষ্ট হবে।