• স্মার্ট ওয়াচ আপডেটের নামে ‘ভাইরাস’ হানা, ডিজিটাল ট্যাপ পেমেন্টে উধাও ১১০০ কোটি
    বর্তমান | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ই-পস মেশিনে স্মার্ট ওয়াচ টাচ করলেই নিমেষে পেমেন্ট। এয়ারপোর্টের লাউঞ্জ কিংবা শপিং মলের কেনাকেটায় ঝঞ্ঝাটহীন লেনদেনে এটাই এখন ট্রেন্ড। সেখানেই লুকিয়ে ভার্চুয়াল ‘ছিনতাইবাজ’! কারণ, স্মার্ট ওয়াচ আপডেট করলেই ঢুকছে ডার্ক ওয়েবের ভাইরাস। সেই ম্যালওয়্যার দখল নিচ্ছে স্মার্ট ওয়াচের বায়োমেট্রিক নির্ভর ট্যাপ-টু-পেমেন্ট সিস্টেমে। ই-পস মেশিনে ঘড়ির স্ক্রিন ছুঁইয়ে লেনদেনের অনুমতি দিলেই টাকা গায়েব। দেশজুড়ে প্রযুক্তি নির্ভর এই প্রতারণা ঠেকাতে ঘুম উড়েছে তদন্তকারীদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য বলছে, গত ছ’মাসে অজানা এই ভাইরাস হানায় প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার ডিজিটাল লুট হয়েছে। তা রুখতে ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। 

    ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড (ওয়াই-ফাই নির্ভর) ট্যাপ করে পেমেন্টের প্রবণতা এখন ব্যাকডেটেড। হাই-টেক প্রজন্ম মজেছে মোবাইল বা ই-গ্যাজেট নির্ভর আর্থিক লেনদেনে। মানিব্যাগে নগদ রাখা প্রায় ভুলতে বসেছে আম জনতা। তার বদলে পাড়ার মুদি দোকানের কেনাকাটিতেও অনলাইন পেমেন্ট অ্যাপের কিউ-আর কোড খোঁজে তাঁদের চোখ। এই প্রবণতাই বাড়িয়েছে প্রতারণা মাত্রা। একইসঙ্গে বদলেছে সাইবার প্রতারণার ধরনও। মুঠোফোনে ‘সেভ’ করা যায় গ্রাহকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ভার্চুয়াল তথ্য। মানিব্যাগ বা কার্ড হোল্ডারে আসল কার্ড বয়ে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা নেই। থাকে না হারানোর ভয়ও। ফোন থেকেই সেই কার্ডের সব সুবিধা একটি ট্যাপের মাধ্যমে পেতে পারেন গ্রাহক। এখানেই শেষ নয়। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফোনের সঙ্গে যুক্ত স্মার্ট ওয়াচে সেই ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের যাবতীয় তথ্য ‘সিঙ্ক’ করে রাখতে পারেন গ্রাহক। মোবাইল ডেটা বা ওয়াইফাই জোনে থাকলেই সেই স্মার্ট ওয়াচ বা মোবাইল ট্যাপ করে টাকা পেমেন্ট করতে পারেন গ্রাহক। কিন্তু সেই পেমেন্টেই ফাঁদ পাতছে প্রতারকরা। কীভাবে চলছে এই প্রতারণা? পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘নির্দিষ্টভাবে কোনও গ্রাহককে টার্গেট করছে না জালিয়াতরা। স্মার্ট ওয়াচের আপডেট (ফার্মওয়্যার) ডাউনলোড করতে হলে প্রয়োজন ওয়াইফাই কানেকশন। সেই ওয়াইফাই জোনের আইপি অ্যাড্রেসে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করানো হচ্ছে। সেই ওয়াইফাই কানেকশনে স্মার্ট ওয়াচের আপডেট হলেই তাতে প্রবেশ করছে ভাইরাস। সেই ভাইরাস আদতে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক সিস্টেম হ্যাক করে। গ্রাহক যখনই ট্যাপ-টু-পেমেন্ট বা এনএফসি (নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) বেসড পেমেন্ট সিস্টেম মারফত লেনদেন করতে যাচ্ছেন, ম্যালওয়্যারের সাহায্যে টাকার রিসিভার বদলে যাচ্ছে প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে। সব গ্যাঁড়াকল ভার্চুয়ালে। অদৃশ্য থেকেই কোটি কোটি টাকা লুটের ঘটনা সামলাতে রীতিমতো কালঘাম ছুটছে উর্দিধারীদের। 
  • Link to this news (বর্তমান)