• রিফান্ড-উদ্যোগ! টিকিট বিক্রেতা সংস্থাকে টাকা ধরে রাখার নির্দেশ, ফুটেজ দেখে তাণ্ডবকারীদের খুঁজছে পুলিশ
    বর্তমান | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: চারপাশে গড়াগড়ি খাচ্ছে ভাঙা চেয়ার, ছেঁড়া ব্যানার-হোর্ডিং। সবুজ ঘাসে ছড়ানো ছিটানো চিলি চিকেন, পপকর্ন, প্যাকেট প্যাকেট অবিক্রিত জলের বোতল, ঠান্ডা পানীয়! সল্টলেকে যুবভারতী স্টেডিয়ামের সর্বত্র এই ধংসস্তূপের ছবি। হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু প্রিয় ফুটবল তারকা মেসিকেই দেখতে পাননি তাঁরা। টিকিটের দাম ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে আয়োজকদের লিখিতভাবে জানানোর কথা বলেছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। এবার টিকিট বিক্রেতা সংস্থাকে টাকা ধরে রাখার নির্দেশও দিল বিধাননগর কমিশনারেট। চিঠি দিয়ে ওই সংস্থাকে জানানো হয়েছে, বিক্রি হওয়া টিকিটের অর্থ এখনই যেন শতদ্রু দত্তদের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার না করা হয়। স্টেডিয়ামে ভাঙচুর, অগ্নি-সংযোগে কারা যুক্ত, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাদেরও চিহ্নিত করছে পুলিশ।

    একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রড দিয়ে ভাঙা হচ্ছে স্টেডিয়ামের গেট, ভাঙচুর করে ছোড়া হচ্ছে চেয়ার। সোফা সেট তুলে এনে জ্বালানো হচ্ছে। ভাঙচুরের পর ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কেউ কার্পেট কাঁধে তুলে দিব্যি হাঁটছেন, কেউ বাইকের পিছনে নিয়ে যাচ্ছেন ভাঙা চেয়ার, কেউ আবার হাতে করে নিয়ে যাচ্ছেন ফুলের টব! এই লুট মনে করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের ছবি। তবে, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, পূর্তদপ্তর ক্ষয়-ক্ষতির হিসেব কষছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা। বিধানগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ জানিয়েছেন, ধৃত শতদ্রু দত্ত ছাড়াও এই ঘটনায় আরও কয়েকজনকে সমন পাঠানো হচ্ছে। 

    স্টেডিয়ামের মূল প্রবেশপথের সামনেই পড়ে রয়েছে সিল করা অসংখ্য জলের বোতল। মহার্ঘ। কারণ, ২০ টাকার ওই বোতল আয়োজকরা ভিতরে বিক্রি করছিল ২০০ টাকায়! সেই বোতলের বৃষ্টি হয়েছে মেসির অনুষ্ঠানে। পুলিশ দর্শকদের জলের বোতল নিয়ে ঢুকতে দেয়নি। গেটেই আটকে দেওয়া হয়েছে। তাহলে পাউচের পরিবর্তে ভিতরে কোন সমীকরণে বোতল বিক্রি হয়েছে? তাও পুলিশকে না জানিয়েই! এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত কমিটি। পুলিশ কমিশনারও জানিয়েছেন, কারা ভেন্ডার নিয়েছিল, কীভাবে বিক্রি করল, তার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    টিকিট বিক্রেতা সংস্থাকে টাকা ধরে রাখার নির্দেশ কি রিফান্ডেরই উদ্যোগ? এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, অনলাইনে টিকিট বিক্রি হওয়ার পর ওই টাকা শতদ্রু দত্তদের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা। কিন্তু এখনই সেই টাকা ট্রান্সফার হয়ে গেলে রিফান্ড প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, মূল উদ্যোক্তাই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছেন। তিনি পুলিশ হেপাজতে। ফলে, মামলা না মেটা পর্যন্ত টাকা ফ্রিজ করে রাখতে বলা হয়েছে। দর্শকদের টাকা ফেরতের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি। তবে এ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও মন্তব্য করেনি তদন্ত কমিটি। খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, যথা সময়ে মতামত দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)