দায়-ব্যর্থতা মানুষের, নির্লজ্জ শতদ্রু! ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজত, স্টেডিয়ামে তদন্ত কমিটি
বর্তমান | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আমার মক্কেল শুধুমাত্র উদ্যোক্তা। ইভেন্ট ম্যানেজার নন। তাহলে কীভাবে উদ্যোক্তার উপর দায় বর্তাচ্ছে? মানুষ যদি মেসিকে দেখতে না পান, তাহলে কি চেয়ার ছুঁড়বেন? ভাঙচুর করবেন? এই ঘটনা মানুষের দায়। ব্যর্থতা।’ আন্তর্জাতিক মেগাস্টারের আগমনে নজিরবিহীন ‘ডিজাস্টার’ সামাল দিতে এই নির্লজ্জ বক্তব্য ধৃত উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তর আইনজীবী দ্যুতিময় ভট্টাচার্যের। অর্থাৎ, এটাই ভার্সান অভিযুক্তের। রবিবার বিধাননগর আদালতে অভিযুক্তের জামিনের আর্জি জানান তিনি। বিচারক সটান তা নাকচ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। এরপরই বাইরে বেরিয়ে গোটা ঘটনায় শতদ্রুর দায় স্রেফ উড়িয়ে দেন আইনজীবী। দায় চাপিয়ে দেন একরাশ আপশোস নিয়ে ঘরে ফেরা প্রায় ৫৫ হাজার মেসিভক্তের উপর।
শনিবার এলএম টেনের ক্ষীণ দর্শন থেকেও বঞ্চিত হয়েছে যুবভারতীর গ্যালারি। দর্শকদের আঙুলের নিশানায় নেতা-মন্ত্রী-আমলাদের হ্যাংলামি। অথচ যারা হাজার হাজার টাকা খসালেন, তাঁদের প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূন্য। ভস্মে ঘি ঢালার আক্রোশে ফেটে পড়েন ফ্যানরা। চলে ভাঙচুর, তাণ্ডব। চূড়ান্ত অব্যবস্থা, বিশৃঙ্খলায় প্ররোচনা ও উসকানির অভিযোগে শনিবারই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বিচারক নিশান মজুমদারের এজলাসে পেশ করা হয় তাঁকে। টিআই প্যারেডের কোনও সম্ভাবনা না থাকলেও মুখ ঢেকে আদালতে হাজির করা হয় মেসি-ইভেন্টের আয়োজককে। তাঁকে দেখেই কোর্ট চত্বরে শুরু হয় বিক্ষোভ। আওয়াজ ওঠে... ‘চোর’, ‘চোর’। আদালত চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।
মামলার শুনানিতে অভিযুক্তের আইনজীবী সওয়াল করেন, ‘স্টেডিয়াম ভাঙচুরের জন্য পুলিশ উদ্যোক্তাকে দায়ী করেছে। আমার মক্কেল শুধু আয়োজক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ইভেন্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব ছিল। তাঁদের সঙ্গে আয়োজকের কোনও সম্পর্ক নেই। তাই বিচারকের কাছে আমি মক্কেলের জামিন চাইছি।’ সেই আর্জির তীব্র বিরোধিতা করেন সরকারি আইনজীবী অমিতাভ জানা। তিনি এজলাসে জানান, তদন্তের জন্য অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতে রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তার পক্ষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেখিয়েছেন সরকারি আইনজীবী। তাঁর দাবি, ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। মোট কত টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং সেই বাবদ আয়ের অঙ্ক কী—সবটাই এখন তদন্তকারীদের স্ক্যানারে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় কারা সহযোগী? কে বা কারা প্ররোচনা-উসকানি দিয়েছে? এইসব প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছে তদন্তকারীরা। সেই সূত্র যেমন শতদ্রুর সঙ্গে বাঁধা, তেমনই জুড়ে রয়েছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেও। রবিবার সকালেই তাই সল্টলেক স্টেডিয়ামের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পৌঁছে গিয়েছিল বিশেষ তদন্ত কমিটি। উপস্থিত ছিলেন কমিটির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, ক্রীড়াসচিব রাজেশকুমার সিনহা সহ রাজ্যের পদস্থ কর্তারা। পাশাপাশি ছিলেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ সহ অন্যান্য আধিকারিকরাও। পুরো ঘটনাস্থলের ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিচারপতি অসীমবাবু বলেন, ‘তদন্ত শুরু হল। স্টেডিয়াম ঘুরে দেখলাম। সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যথাসময়ে সব জানানো হবে। পুলিশের কাছে দ্রুত রিপোর্ট চেয়েছি।’ এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসও।