• পরিচ্ছন্নতা, নজরদারি নিয়ে ক্ষোভ মাইথনে
    আনন্দবাজার | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ঠান্ডা ভাল ভাবে পড়তেই রবিবারে পর্যটকের ভিড় পশ্চিম বর্ধমানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র মাইথনে। কলকাতা, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান-সহ রাজ্যের নানা প্রান্ত তো বটেই, পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকেও বাস, মিনিবাস, গাড়িতে করে পর্যটকেরা আসছেন। কেউ পরিবারের সঙ্গে পিকনিক করছেন, কেউ স্কুলের দলবল নিয়ে এসেছেন, কেউ আবার বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। চলছে নৌকাবিহার। অনেকে যাচ্ছেন কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতেও। পিকনিকের মরসুমেবিক্রিবাটা জমে উঠেছে বলে জানাচ্ছেন বিভিন্ন দোকানপাটের মালিকেরাও। তবে পরিচ্ছন্নতা ও সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়ে অভিযোগ তুলছেন অনেক পর্যটক। নৌকাবিহারের সময়ে অনেকে ‘লাইফ জ্যাকেট’ পরছেন না, এমন অভিযোগও উঠেছে।

    সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির তরফে মাইথনে পিকনিকের জায়গায় প্রবেশের জন্য ফি নেওয়া হচ্ছে। বড় বাস ২৫০ টাকা, মিনিবাস, ম্যাটাডরবা ট্রাক্টর ২০০ টাকা, গাড়ি ১৫০ টাকা এবং অটো বা টোটোর জন্য নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। কিন্তু পর্যটকদের অভিযোগ, ভাল টাকা ফি নেওয়া হলেও, ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে রয়েছে। যত্রতত্র গরু-কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে, পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। পরিচ্ছন্নতার দিকে যথেষ্ট তদারকি না থাকলেও, পরিষ্কার করার জন্য আলাদা ৫০ টাকা দিতে হচ্ছেবলে অভিযোগ।

    বর্ধমান থেকে বাসে পিকনিক করতে আসা মনোজ মালিকের কথায়, ‘‘২৫০ টাকা ফি দিয়ে ঢুকতে হয়েছি, কিন্তু সুযোগ-সুবিধা কিছু নেই। চারদিকে নোংরা, গরু-কুকুর তাড়াতে হচ্ছে, পানীয় জলের অভাব। পরিবেশ ভাল। কিন্তু আরও উন্নয়ন দরকার।’’ দুর্গাপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা শঙ্কর মাহাতোরও বক্তব্য, “ফি দিয়ে ঢুকেও পরিচ্ছন্নতার অভাব। রান্না-খাওয়ার পাশেই আবর্জনা পড়ে রয়েছে। নজরদারির অভাব আছে। এ সব দিকে নজর দিলে আরও অনেকে আসবেন।’’

    নৌকাবিহারে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান অনেক পর্যটক। অনেকে ‘লাইফ জ্যাকেট’ না পরেই নৌকায় উঠে পড়ছেন। তা পরতে বলা হলেও, অনেকে কথা শুনছেন না বলে দাবি করেন নৌকাচালকদের অনেকে। এক নৌকাচালক ফিরোজ আনসারির কথায়, ‘‘প্রতি নৌকায় চারটি করে ‘লাইফ জ্যাকেট’ আছে, আরও বরাত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পর্যটকেরা পরতেই চাইছেন না।’’ তাঁরা জানান, পর্যটকেরা নৌকাবিহার করায় উপার্জন ভাল হচ্ছে ঠিকই, তবে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তাঁদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। প্রশাসনিক নজরদারি থাকলে সুবিধা হয়, জানান অনেক পর্যটকও।

    বিডিও (সালানপুর) দেবাঞ্জন বিশ্বাস বলেন, “নৌকায় উঠলে লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক। পর্যটকদের একাংশ তা পরছেন না, এই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতি বছরই ভাল মানের জ্যাকেট দেওয়া হয়। পরিচ্ছন্নতার অভিযোগও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)